Friday, 24 March 2017

ময়ূরকণ্ঠী প্রাসাদ

                    
Image result for abstract pencil sketch of indian old palace                       
ক যে ছিল দেশ । ওই দেশের রাজা ছিল আজব , তার মর্জিও ছিল বিদ্‌ঘুটে । রাজার নির্দেশ মত রাজসভার সব কাজকর্ম হত প্রমোদ উদ্যানে । সেখানে জরুরী আলোচনা থেকে শুরু করে নাচ গান কোনটাই বাদ যেত না ।
                                  খোলা নীল আকাশগাছের পাতারা মাথা দুলিয়ে মিষ্টি শীতল হাওয়া যখন দিত তখন গরম যে কোথায় পালিয়ে যেত তার ঠিক নেই । বাগানে লাল-নীল হরেক রঙের ফুলের পাপড়ি আর তাদের মধুর মত গন্ধ বাতাসকে মাতিয়ে তুলত ব্যাস তাতেই কেল্লা ফতে । যে সব কঠিন বিষয় দলা পাকিয়ে থাকত তা এক নিমিষে উধাও । সমাধান হয়ে যেত একের পর এক সমস্যা । যদিও ওই দেশে সে অর্থে সমস্যা কিছুই ছিল না । আজব রাজার নির্দেশে মন্ত্রী-সন্ত্রী সকলের বউরাও হাজির থাকত রাজকার্যে । এমনকী রানীও মুখে বেশখাণিক পান ঠুসে রাঙা রাঙা ঠোঁটে সুন্দরটি করে সেজে মাঝে মধ্যেই আসতেন । তারপর রাজার ঠিক পাশেই চমৎকার এক ঘাসের সিংহাসনে এসে বসতেন । কাজের ফাঁকে ফাঁকে দাসীরা হাতে তৈরী করা নাড়ু, নিমকি দিয়ে যেতে ধামা ভরে । সবাই মিলে ভাগ করে খেতে খেতে জমিয়ে তুলত রাজ সভার কাজ ।
                                    এভাবেই আজব রাজার দেশ বেশ দিব্যি কেটে যাচ্ছিল । হঠাৎ এক রাতে বেজে উঠল রাজঘন্টি । রাজঘন্টি হল আজব দেশের এক বিশেষ অঙ্গ । রাজার আদেশ ছিল এই ঘন্টির আওয়াজ শুনলেই যে যেখানে , যে অবস্থায় থাকো মুহূর্তের মধ্যে চলে আসতে হবে সেই প্রমোদ উদ্যানে
                                    একরাতে ঠন ঠন ঠন করে ঘড়ি তো বেজেই চলেছে । রাজা মশাই দিব্যি ঘুমাচ্ছিলেন । ইতি পূর্বে কোনদিনও এই তালা ধরানো শব্দ হয় নি ! আজব দেশে তো কোনদিন কোন বিপদই হয় না ! লাফ দিয়ে উঠলেন রাজামশাই । ধড়া চূড়া ছেড়ে দৌড় দিলেন কিন্তু একি ! প্রমোদ উদ্যানে তো কেউই এসে পৌঁছায় নি ! এমনকি ঘুটঘুটে অন্ধকারও তার উদ্যান ! কতবার তিনি বলেছেন , যদি এই পাগলা ঘণ্টি বেজে ওঠে তাহলে মশাল বাহকরা যেন সব মশাল জ্বালিয়ে দেয় । পাজামা পরে একা একা রাজা মশাই ঘুড়তে লাগলেনরেগে অগ্নিশর্মা হয়ে উঠেছেন ! তবে কীভাবে রাগতে হয় তাও ঠিক জানেন না ! মনে মনে ভাবলেন , ‘ এত বড় আস্পর্দা রাজ আদেশ অমান্য । দাঁড়াও কাল সকাল বেলায় সবকটাকে আচ্ছা করে কেতুকুতু দেব !’
কোমরে কিছুক্ষণ হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে দুঃখী মনে রাজা ফিরলেন তার ময়ূরকণ্ঠী প্রাসাদের দিকে । আওয়াজও থেমে গেছে ইতিমধ্যে । নানা কথা চিন্তা করতে করতে তিনি ঢাউস পালঙ্কে শুয়ে পড়লেন । রানীও ওঠেন নি । তিনি যে দিব্যি ঘড়োৎ ঘড়োৎ নাক ডাকিয়ে ঘুমাচ্ছেন ! শুয়ে শুয়ে ভাবলেন , ‘ এটা কেমন করে হল, সবাই কী সুন্দর ঘুমাচ্ছেন আর এক মাত্র তিনি দৌড়ে মরলেন !’ ভাবতে ভাবতে কোন ফাঁকে আজব দেশের রাজাও নাক ডাকতে শুরু করে দিলেন । সমস্ত প্রাসাদ নিঝুম হয়ে পড়লো ।
রাজপ্রাসাদে হুলুস্থুলুস কান্ড ! সবে রাজা মশাই টলতে টলতে চোখ বন্ধ করে দাঁত মাজচ্ছিলেন আর ঠিক তখনই রাজার খাস প্রহরী এসে উপস্থিত ।
-   “ রাজা মশাই শিগ্‌গির চলুন , কী হয়েছে দেখবেন !”
-   “ কী হয়েছে প্রহরী , কী এমন হল যে তুমি সাত সকালে নাওয়া খাওয়া ভুলে চলে এলে ” দাঁত মাজা বন্ধ করে রাজামশাই বলে উঠলেন ।
-   “ রাজা মশাই ঘোড়াশালে একটা ঘোড়াও নেই , সব যেন কোথায় ভ্যানিস হয়ে গেছে ,” হাঁপাতে হাঁপাতে প্রহরী জানালো ।
কথা শুনেই রাজার তো চক্ষু চড়ক গাছ । সঙ্গে সঙ্গে তিনি আর প্রহরী ছুটলেন আস্তাবলের দিকে । এদিকে হই চই শুনে মন্ত্রী আমলা সবাই একে একে আসতে শুরু করে দিয়েছেন । শূন্য আস্তাবল দেখে তো সবাই হাঁ ! রাজা মশাই বোকার মত সবার দিকে চোখ বোলাতে লাগলেন । দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বললেন , “ আমার রাজ্যে কী হল বল দেখি মন্ত্রী ?”
-   “ সেই তো ভাবছি ! কোনদিনও আমরা কারো অনিষ্ট করি নি, যুদ্ধ কাকে বলে তাও জানি না !”
-   “ যাও হে প্রহরী রাজ জ্যোতিষীকে আর পুরুত মশাইকে নিয়ে এসো ” এই বলে রাজা পা চালালেন তার প্রমোদ উদ্যানের দিকে
ইতিমধ্যে বাকী সকলেই হাজির রাজসভায় । উদাস মনে রাজা বসলেন তার আসনে । একটু পরেই রাজ জ্যোতিষী আর পুরুত টিকিতে ফুল বাঁধতে বাঁধতে ঢুকলেন । মনে মনে তাদের কিন্তু বেশ মজাই লাগছে । কতদিন রাজ্যে যাগ যজ্ঞ হয় নি ! রাজা মশাই তাদের দিকে তাকিয়ে বললেন , “ তোমরা দু’জনাই দেখো দেখি কীভাবে এসব হল আর এর উপায়টাই বা কী ?”
-   “ তা রাজন অনেককাল পুজো আচ্চা ভালো করে হয় নি তো তাই এই অনাসৃষ্টি ,” একটিপ নস্যি নাকে গুঁজে পুরুত মশাই বলে উঠলেন । তার দেখাদেখি রাজ জ্যোতিষীও একটু খুসখুস করে উঠে গায়ে পট্টবস্ত্র জড়াতে জড়াতে বলে উঠলেন , “ মহারাজ আমার মন বলছে অন্য কিছু ! আমাকে একটু সময় দিন, আমি আঁক কেটে জানিয়ে দিচ্ছি কেন এমন অমঙ্গল !”
-   তা দেখো দিকি তোমরা কেন এমন ঘটল অঘটন !” রাজামশাই গালে হাত দিয়ে কথাটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বলে উঠলেন ।” রাজা আজ তার রাজকার্জ ফেলে চলে গেলেন রাজভবনে ।
রাজপুরুত , রাজ জ্যোতিষী খুশী মনে বাড়ী ফিরেই মহাব্যস্ত হয়ে পড়লেন । নানাবিধ ফর্দ খস খস করে লিখতে লাগলেন
সারাদিনে রাজা মশাই নানা কাজে ব্যস্ত থাকার জন্য ভালো করে নাওয়া খাওয়া কিছুই করতে উঠতে পারেন নি । এমনকি দুপুরবেলা রাজার প্রিয় ভাত ঘুমটিও আজ হয় নি । সন্ধ্যে নামতেই আজব রাজার শরীর আর চলে না । রানী তা দেখে আদুরে গলায় বললেন , “ ওগো এমন করলে শরীর যে খারাপ হয়ে যাবে , আমি দাসীদের বলছি খাবার দিতে ।”
রাজা কাতর চোখে মিনমিন করতে করতে বললেন , “ রানী আমার দেশে শেষে এমন কথা তো ভাবতেই পারি নি ! নাহ , আমার আজ খেতে ইচ্ছে নেই গো ।”
-   “ উম্‌ । একদম কথা নয় লক্ষীছেলের মত খেয়ে শুতে যাও । আমাদের জ্যোতিষী ঠাকুর তো বলেই দেবেন , তারপর না হয় দেখা যাবে ” কপট রাগ দেখিয়ে রানী বলে উঠলেন ।
ময়ূরকণ্ঠী প্রাসাদে বেশ রাত হয়েছে । প্রাসাদের গম্বুজের ফাঁক দিয়ে এক চিলতে চাঁদের আলো এসে পরছে চারিদিকে । এমন সময় রাজা আবার ধড়ফড়িয়ে উঠে পড়লেন । বিছানার মধ্যে বসে বসে শুনতে লাগলেন রাজঘন্টি বেজে চলেছে । ভয় পেয়ে রানীকে সজোরে ঠ্যালা মারলেন । ঘুম জড়ানো চোখে রানী উঠতেই , আজব রাজা বলে উঠলেন , “ ও রানী শুনতে পারছ , আবার বেজে উঠেছে !”
রানী একটু ধাতস্থ হয়ে ভালো করে শুনতে লাগলেন । তারপর ভয় পেয়ে রাজাকে কাঁপতে কাঁপতে জড়িয়ে ধরে বললেন, “ মহারাজা এ যে ঘন্টার আওয়াজ !”
যাক আজ রানীও শুনতে পেরেছেতার মানে গতরাতেই ঠিকই শুনেছিলেন, রাজা মনে মনে ভাবতে লাগলেন । বন্ধ দরজার তলায় যেটুকু আলো আসছে তাতেই দেখলেন, বাইরে কিসের যেন ছায়া মূর্তি । ছায়াটা দরজার কাছে এসেই ঠক্‌ ঠক্‌ করে সজোরে দরজার কড়া ধরে নাড়াল । রানী রাজাকে ধাক্কা মেরে বললেন , “ যাও দেখো কে এল এ অসময়ে ?”
বিছানা থেকেই রাজা কাঁপা কাঁপা গলায় হেঁকে উঠলেন , “ কে কে ! যেই হও পরিচয় দাও নইলে কিন্তু দরজা খুলব না বলে দিলাম !”
-   “ আমি মহারাজা , আপনার গজব মন্ত্রী , তাড়াতাড়ি আসুন, বাইরে সবাই আপনার অপেক্ষা করছে ।” তার প্রিয় গজব মন্ত্রীর গলা শুনে রাজা হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন ।
আজব রাজা দরজা খুলতেই দেখলেন শুধু মন্ত্রী নয় সব রাজকর্মচারী উপস্থিত । সবার মুখেই উৎকণ্ঠা । এত রাতে আবার কী উৎপাত হল !
-   “ মহারাজ , আপনার প্রিয় পক্ষীরাজ শ্বেতরাজ নেই ! এই মাত্র রাজ মাহুত খবর দিল ।” এই পক্ষীরাজ শ্বেতহস্তী অতি বিরল । এক সাধুবাবা আজব রাজের উপর অতি প্রসন্ন হয়ে আশীর্বাদ স্বরুপ দিয়েছিলেন বহুযুগ আগে ।
গজব মন্ত্রীর কথা শুনে রাজা মূর্ছা যাওয়ার অবস্থা । সবাই মিলে ধরাধরি করে রাজাকে সোজা করে দাঁড় করালেন । রানী দৌরে গিয়ে এক গেলাস জল এনে দিতেই রাজা ঢক ঢক করে খেয়েই তীব্র বাজখাই গলায় বলে উঠলেন , “ আমি এখুনি যাব আর রাজ জ্যোতিষী কোথায় ! ডেকে আনো ওটাকে ।” রাজার হাল দেখে সবাই চমকে গেল । একেই কী রাগ বলে ! পুঁথিতে যা তারা এতকাল পড়েছে ! যাক , অবশেষে রাগ বস্তুটিকে দেখা গেল !
মশাল বাহকরা আজ সারা উদ্যান আলোয় ভরিয়ে তুলেছে । জ্যোতিষী কী সব দাগ কাটছে এক প্রস্তর জাবদা মোটা কাগজে । আর মাঝে মধ্যে মাথা ঝাঁকিয়ে কড়ি চেলে আঙুলের কর গুনেই যাচ্ছে । কাঁহাতক আর সহ্য করা যায়! মাঝ রাত থেকে থেকে প্রায় ভোর হওয়ার যোগার ! শেষে আজব রাজা গর্জন করে উঠলেন , “ জ্যোতিষী আর নয় এবার জানাও কী হল , নইলে নইলে...” নইলে কী করবেন তা নিজেও জানেন না সুতরাং লাল মুখ করে চেয়ে রইলেন ।
শান্ত গলায় জ্যোতিষী মহাশয় বলেন , “ রাজন , মৃগশিরা আর অশ্বিনী নক্ষত্র যোগের সাথে কুম্ভ রাশির মহা মিলনে চন্দ্রের উপর কেতুর প্রভাব তথা শনির বক্রিতে...”
“ চোপ ! একদম চোপ । বল বল কী হল আসলে, আমি অতসব বুঝি না ! মাঝ পথেই থামিয়ে দিলেন একধমকে । আবার মাথা নীচু করে গণনা শুরু করে দিলেন । মাঝে চার পাঁচ বার রানী ও তার সখীরা চা পাঠিয়ে দিয়েছেন যাতে কেও ঘুমিয়ে না পরেন ।
ভোরের আলো বেশ ভালো ভাবেই ফুটে উঠেছে । মশালের আলো সারা রাত আলো দিয়ে প্রায় নিভু নিভু । পুরুত মশাই এতক্ষণ পর হাজির । সাথে মালীর দলরাজা , মন্ত্রী কিছু বলার আগেই নিজেই বলে ওঠেন , “ রাজন , কাল আমি আসি নি এ জন্য মার্জনা করুণ ।”
-   “ কেন করব মার্জনা , কোন কাজে ব্যাস্ত ছিলে !” এমনিতেই সারা দুপুর-রাত জীবনে প্রথম ঘুম হয়নি , তারপর এই বিটকেলে কথা শোনার পর আজব রাজ আরও লাল চোখে খেঁকিয়ে উঠলেন ।
প্রমোদ উদ্যানের সব পাখি থেকে শুরু করে এ রাজ্যে সবার ভোরের মিষ্টি ঘুম ভাঙে রাজ মোরগের ডাক অনুসারে । রাজ মোরগ ও রাজ মুরগী দম্পতি হল এ রাজ্যের সময় রক্ষক । কিন্তু আজ হল অন্যথা ! রাজ মোরগ সবে মাত্র নরম বিছানা থেকে উঠে গলার কেশর ফুলিয়ে ঠোঁট খুলে কঁক্‌ করে উঠবে তখনই রাজার ওই চীৎকারে এক বেদম বিষম খেয়েই চুপ করে যায় । দম্পতি দু’জনা বাইরে উঁকি মেরে দেখেন রাজা লাফ দিয়ে দু’হাতে পুরুতের সরু ঘেঁটি ধরে নাড়াচ্ছেন ।
পুরুত ঠাকুর যেন একটা নেংটি ইঁদুরের মত হয়ে গেছেরানী দৌড়ে এসেছেন । কোন মতে ছাড়ালেন রাজার হাত থেকে রাজ পুরুতকে । জ্যোতিষী মশাই পাততাড়ি গুটিয়ে ‘ বাবা গো ’ বলেই গজব মন্ত্রীর পিছনে লুকিয়েছেনমালীদের দিকে আঙুল দেখিয়ে পুরুত কী যেন বলে উঠলেন ।
-   “ কী হয়েছে বল মালী ” রাজা মালীদের দিকে এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন । আজব রাজের ঘোড়া উধাও তারপর সন্তান তুল্য শ্বেতরাজ নেই ! রাজার প্রথম ভয়ংকর মুখ থেকে মালী শ্রেষ্ঠ কঁকিয়ে বলল , “ মহারাজ ওদিকের বাগানের এক কোণায় এক আজব কান্ড , চলুন দেখবেন ।
আজব রাজ থাকতে না পেরে দিলেন এক দৌর । তার দেখা দেখি সবাই চললেন তার পিছনে । আর এসেই দেখেন সেই বিস্ময় !
সবুজে মোড়া আজব রাজ্য । চারিদিকে গাছ আর গাছ । নানা পাখি , কীট পতঙ্গ ফুলে ফুলে মধু খেয়ে বেড়ায় নির্বিঘ্নে , কোন ভয় নেই । রাজ্যের একদম শেষ সীমানায় থাকে এক অতি বৃদ্ধ খোদাইকর শিল্পী । এক মুখ ভর্তি লম্বা পাকা দাড়ি ঠিক যেন বরফের মত তুলতুলে । নিজের কাজেই মশগুল । ছোট্ট অথচ সুন্দর এক মাটির কুটিরে সে থাকে । কাজের ফাঁকে নড়বর করে হাঁটতে হাঁটতে জঙ্গল থেকে কাঠ কুড়িয়ে রান্না করে খায় । কারোর সাথে পাঁচে থাকে না ।
সেদিন সকালে নিজের মতই কুটিরের সামনে বসে ছেনি হাতে ঠুন্‌ ঠুন্‌ করে পাথরের গায়ে ফুটিয়ে তুলছিল আরেক সুন্দর মূর্তি । মনে মনে বেশ খুশী । হঠাৎ দৈব আশীর্বাদে কাজের তলব এসেছে মূর্তিটা তৈরী করে দিতে হবে । কিছুদিন আগেই কারা যেন এসে নিয়েও গেছে গোটা কয়েক । খোদাইকরের হাতে দিয়েছে এক থলে স্বর্ণ মুদ্রা । খোদাইকরের এক আশ্চর্য ক্ষমতা আছে , তাকে যেমনটি বর্ণনা করে দেওয়া হয় ঠিক সেই রকম মূর্তি হুবুহু বানিয়ে দিতে পারে ।
ঠিক তখনই দূরে শুনতে পেল ঢ্যাঁড়ার পিটানোর শব্দ । তাজ্জব বনে গেল , এমন তো এ রাজ্যে আগে শোনে নি । হাতের কাজ পাশে সরিয়ে কোনমতে লাঠি নিয়ে এগিয়ে গেল । কাছে যেতেই শুনতে পেল ঘোষক ঘোষণা করছে জীবনে প্রথমবার । চিৎকার করে করে বেচারির গলা প্রায় ভেঙে গেছে ;
“ শোন শোন শোন সবে, রাখ রাজ মান-
রাজহস্তী ,অশ্ব প্রস্তর আজি মহা দুর্ঘটন,
রয়েছে রাখা তারা সবে রাজ উদ্যান ;
যে পারিবে করিতে রহস্য উদ্ঘাটন-
রাজা দিবে রাজকন্যা সহ স্বর্ণ কয়েক টন...।”
রাজ্যের লোকেরা এ হেন খবরে তাজ্জব বনে গেল । কাজ কারবার ফেলে সবাই হাঁটা লাগাল ময়ূরকণ্ঠী প্রাসাদের দিকে । বৃদ্ধ খোদাইকর কী যেন ভেবে আপন মনে বিড় বিড় করতে সেদিকে না গিয়ে তার কুটিরের দিকেই ফিরে গেল ধীরে ধীরে ।
সকালটা আজ বড্ড দ্রুত পেড়িয়ে গেল । রাজ মোরগ বিকেলের শেষ সূর্যের আলোর দিকে তাকিয়ে সময় জানান দিয়ে ভিতরে ঢুকল । ময়ূরকণ্ঠী মহল দু’দিনের ধাক্কায় বেশ সচল হয়ে উঠেছে । প্রহরীরা আজ অনেকদিন পর সজাগ । আজব রাজা বহু কাল পর তলোয়ারে শাণ দিয়ে কোমরে গুঁজে মহলের সব জায়গা ঘুরে ফিরে দেখছেন । অনেক কাল পর কাজ পেয়ে মন্ত্রী আমলা সক্কলেই বেশ তরতাজা হয়ে উঠেছেআজব রাজার দেশে সবাই আনন্দে থাকতে থাকতে প্রায় ভুলতেই বসেছিল দুঃখ কী ! আর সমস্যা, শত্রু আসলে তা কীভাবেই বা রক্ষা করতে হয় তা জানাই নেই েনাপতি আজ রাত হয়ে গেলেও শুতে যান নি । সব মিলিয়ে যেন সাজ সাজ ব্যাপার । আজব রাজা তো প্রতিজ্ঞা করেই বসেছেন যে করেই হোক এর বিহিত করতেই হবে । যদিও মাঝে মধ্যে এসে রাজ কবিরাজের দেওয়া অম্লশূল নিরোধক গুলি খেয়ে যাচ্ছে্নঅনেক কাল অভ্যাস না থাকলে যা হয় ।
এদিকে বৃদ্ধ খোদাইকরের মনে কী যেন চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে । এমন সময়ে কুটিরের সামনে ঘোড়ার খুরের শব্দ । কে যেন ডাক দিচ্ছে ! কোনমতে বাইরে বেড়িয়ে চাঁদের সামান্য আলোতে দেখল এক অশ্বারোহী । কালো বস্ত্র , মুখটা কাপড়ে ঢাকা চোখ অবধি । ভালো করে বোঝাই যাচ্ছে না । অদ্ভুত ভাবে একটা খাপে মোড়া লম্বাটে বস্তু তার দিকে ছুঁড়ে দিয়েই দ্রুত বেগে খটাখট শব্দ তুলে নিমেষের মধ্যেই মিলিয়ে গেল ।
দরজা বন্ধ করে প্রদীপের আলো একটু ভালো করে খুঁচিয়ে দিয়ে খাপ থেকে কুন্ডুলী পাকানো কাগজটা আলোয় মেলে ধরল বুড়ো । তাতে লেখা আছে ,
‘ কাল প্রভাতে রাজ প্রমোদ উদ্যানে গিয়ে বলবে, আমি এই সমস্যার সমাধান বার করে দেব । দু’দিন সময় নেবে । বাকী তথ্য পরে পাবে ।’
খোদাইকর ভ্যাবাচ্যাকা খাওয়ার যোগার । আবার ভালো করে দেখল পত্রটি । আরও লেখা আছে , ‘ সমস্যার কিছু নেই সব তুমি পাবে ।’ 
হিমেল গড়ের রাজা অনেক দিন ধরেই পরিকল্পনা করেছিলেন আজব রাজ্য হাতানোর জন্য । হিমেল রাজা এমনটি করতে চেয়েছিলেন তার কারণ ছিল , কঠিন কিছু সমস্যার সমাধান যাতে হয় । রাজ্যে অজানা রোগ ব্যাধি , অনাবৃষ্টি লেগেই থাকত আর ছিল রাক্ষসের উৎপাতএসব কিছুর সমাধান এক মাত্র আজব রাজ্যই করতে পারবে । কিন্তু হিমেল রাজের দুর্ভাগ্য তার রাজপুত্তুরটিকে নিয়ে সহজেই যে কাজ হতে পারত তা একমাত্র হচ্ছিল না তার এক মাত্র রাজপুত্রের জন্য । অমন সুন্দর ফুটফুটে রাজপুত্র ত্রিভুবনে নেই । চমৎকার দেখতে হলে হবে কী , সে ছিল বেজায় অহংকারী । কাওকেই সে সম্মান করতে জানত না ।
এসব কারনে হিমেল রাজ ভয়ানক খেপে ছিলেন ছেলের উপর । রাজপুত্র ভবঘুরে ধরণের , কখন কী করত তার ঠিক নেইকখন কোথায় থাকে তাও বোঝা দায় ছিল
একদিন হিমেল গড়ে ঘটল সব থেকে দুর্ভাগ্যের দিন । সেদিন রাজপুত্র এক গরীব অতি বৃদ্ধ ভিক্ষুককে চরম অপমান করে তাড়িয়ে দিয়েছিল তার খেলা ঘ থেকে । আসলে ওই ভিক্ষুক বেশ কিছুদিন ছিল অভুক্ত । ঘুরতে ঘুরতে ঢুকে পরেছিল রাজপুত্রের এই প্রিয় খেলা ঘরে । সে জানত না এখানে রাজপুত্র ছাড়া কারোরই প্রবেশ করার অধিকার নেই । তাকে তাড়িয়ে দেওয়ার পর  আচমকা একদিন পর রাজপুত্র শীকার করতে বেরোয় কিন্তু আর ফিরে আসে নি ।
সারা রাজ্য, জঙ্গল তোলপাড় করেও মেলে নি সন্ধান । সবাই তখন ধরেই নিল হয় রাজপুত্তুরকে বাঘে খেয়ে নিয়েছে নাহয় শেষ হয়ে গেছে রাক্ষসদের হাতে । কারণ হিমেল গড়ের পূব প্রান্তেই ছিল জটা রাক্ষসদের আস্তানাতারা ছিল যেমন ভয়ংকর তেমনি নির্মম ।  
কী আর করা ! দিন যেতে থাকে এমন করেই । এমন সময়ে পাশের রাজ্য হিমেল গড়েও পৌঁছিয়েছে ওই অদ্ভুত খবর । হিমেল রাজ তার সব মন্ত্রীদের নিয়ে পরামর্শ করতে শুরু করলেন কবে আজব রাজ্য আক্রমণ করা যায় । কারণ এই সঙ্কট মুহূর্তে আক্রমণ করলে বেশী সমস্যা তো হবেই না বরং এক বেলাতেই কাজ সাবাড় হয়ে যাবে ।
আজব রাজের প্রমোদ বাগিচায় আজ লোকের সংখ্যা বেশী । অনেকেই দেখছেন কিন্তু পাথরের শ্বেতরাজ আর পাথরের অশ্ব দেখে কেওই আর মাথার ঠিক রাখতে পারছে না । কী করে সম্ভব ! কোন জাদুবলে বিশাল চেহারার হস্তী , অশ্ব এমন ছোট ছোট পাথরের মূর্তিতে পরিণত হয়ে গেল! আর কেই বা তাদের এই উদ্যানে নিয়ে এসে রাখল ।
যত সব লোক বুক ফুলিয়ে এসেছিল তারা শুকনো মুখে ফিরে গেল । আজব রাজ এ দেখেই লুখিয়ে রানীর আঁচলে এই প্রথম ফোঁত ফোঁত করে ডুকড়ে কেঁদে উঠলেন । কান্নার জল যে নোনতা হয় বুঝলেন প্রথমবার । রাজার দেখা দেখি আমলা থেকে শুরু করে মন্ত্রীরাও নিজের নিজের চোখের জল মুজতে লাগলেন
-   “ মহারাজা প্রনাম হই ! আমি পারব সমাধান করতে ।”
হঠাৎ এই কথা শুনে রাজা , মন্ত্রীরা চোখ মেলে চেয়ে দেখলেন , সেই বৃদ্ধ খোদাইকরকে । কী ভেবে আজব রাজ ঘাসের সিঙ্ঘাসন ছেড়ে লাফ দিয়ে নেমেই বৃদ্ধের হাত ধরে বললেন , “ বাবা আপনি পারবেন , আপনাকে আমি সব দেব !”
-   “ আমাকে দু’দিন সময় দিন । আপনার অশ্ব ,হস্তী তো ফিরিয়ে দেবই , তার সঙ্গে আসল মানুষটিকেও সামনে নিয়ে আসব ।”
বলেই খোদাইকর সেখান থেকে বিদেয় নিল । পুনরায় সেই রাতের গভীরে কুটিরের সামনে অশ্বারোহী হাজির । একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ।
দেখতে দেখতে একটা একটা করে দিন পেরিয়ে যেতে থাকে । আজব রাজ যেমন উৎকণ্ঠিত তেমনি তার রাজ্যকে বাঁচানোর জন্য সবাইকে প্রস্তুতও করতে হচ্ছে অজানা শত্রুর বিরুদ্ধেযদি ওই রুগ্ন বৃদ্ধ রহস্য বার করিয়ে দিতে পারে তাহলে তার নিষ্কৃতি নেই !
আজব রাজ রুদ্র সাজে সজ্জিত । মাথার মুকুট সূর্যের আলোয় যেন আগের থেকেও চকচক করছে । সপারিষদ বসেছেন সভায় । কিন্তু বৃদ্ধের দেখা নেই । সময় চলে যায় । বিরক্ত হয়ে উঠেছে সকলে । রাজা নির্দেশ দিলেন প্রহরীদের , “ যেখান থেকেই পার ওই বুড়োকে নিয়ে এস , আমার চাই এখনই ।”
নির্দেশ মত তারা একটু এগোতেই দেখে বৃদ্ধ টুক টুক করে আসছে আর পিছনে একটা গরুর গাড়ী । বৃদ্ধ সভায় এসেই হাত জোর করে ক্ষমা চেয়ে নিল । তারপর রাজা ও সকলের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো , “ রাজা মশাই আপনার সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে ।”
-   “ বল কী তুমি ! এত পণ্ডিতও যা করতে পারল না তা তুমি করে দিতে পারলে !” বিস্ময়ে উত্তেজনায় রাজা উঠে দাঁড়িয়ে বললেন ।
-   “ তবে রাজন আপনি যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা কিন্তু পালন করতে হবে । যদি তা না করেন আপনার অশ্বগুলো ও পক্ষীরাজ শ্বেতহস্তী তা আর কোনদিনও জীবন্ত হয়ে উঠবে না !”
রাজা তখন সিঙ্ঘাসন থেকে প্রায় দৌরে চলে এসেছেন বৃদ্ধের কাছে । তার হাত দুটি ধরে আকুল নয়নে আর্জি জানায় সব প্রতিশ্রুতি পালন করবেন বলে । বৃদ্ধ খোদাইকর তখন সেই গরুর গাড়ীর গাড়োয়ান কে বললে, “ যাও ভাই ছই-এর ভিতর থেকে মূর্তি খানা নামিয়ে আনো । তারপর রাজার দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন , “ রাজন এই মূর্তি আপনাকে জানিয়ে দেবে আসলে কে নিয়ে গেছে আপনার প্রানাধিক প্রিয় রাজপঙ্খী শ্বেতরাজ ও আপনার অশ্বগুলিকে
-   “ বল কী খোদাইকর ! মূর্তি কথা বলবে !” আজব রাজ চোখ গোল গোল করে বলে ওঠেন । রাজসভায় চাপা গুঞ্জন শুরু হয় । রানী, রাজকন্যা থেকে শুরু করে সবাই অবাক !
 বৃদ্ধ হাল্কা হেঁসে বললে , “ মহারাজা , পাথরের মূর্তি কথা কয় না , তবে তার চেহারায় অবিকল মিল পাবেন যে আপনার এখানেই আছে এবং সেই আপনার রাজ্যে অমন কান্ড ঘটিয়েছে ।”
ধীরে ধীরে ওই মূর্তিটিকে সভার মাঝখানে আনা হল । কাপড়ে ঢাকা মূর্তিটি ।
রাজা সব সভাসদ নিয়ে বসে পড়লেন নিজের নিজের স্থানে । বৃদ্ধ খোদাইকর তখন রাজ অনুমতি নিয়ে একটানে খুলে দিলেন মূর্তিটির উপর সেই মখমলের চাদরটিকিন্তু একি ! এ অসম্ভব ! আজব রাজ অতি ক্রুদ্ধ হয়ে খাপ থেকে তলোয়ার বার করে বৃদ্ধের কাছে এগিয়ে গিয়ে বলেন , “ তোমার সাহস তো কম নয় ! তুমি প্রমান করতে পারবে এই চুরি করেছে ? না হলে তোমার গলা কেটে ফেলে দেব ।”
বৃদ্ধ অতি শান্ত গলায় বললেন , “ মহারাজ মূর্তিটি যার তাকেই জিজ্ঞাসা করুন, তিনি আপনার পাশেই রয়েছেনতিনিই জানাতে পারবেন সত্য-মিথ্যা ।”
আজব রাজ্যের প্রমোদ উদ্যান প্রায় ভীরে ঠাসাঠাসি । প্রহরীরা সামাল দিতে হিমসিম খাচ্ছে । তার উপর এমন বীনা মেঘে বজ্রপাত ! শেষে মহারাণী এমন কাজ করলেন !
আসলে , মূর্তিটির চাদর সরাতেই সবার সামনে ফুটে ওঠে রানীর মুখ । রানীর কাছে জবাব চাইতেই রানী বললেন, “ হ্যাঁ মহারাজা আমিই তোমার পঙ্খীরাজ শ্বেতহস্তী ,ঘোড়াদের - গজব মন্ত্রী , পুরুত মশাই , জ্যোতিষীদের সাহায্যে লুকিয়ে রেখেছি ।”
হতবাক হয়ে যান আজব রাজা । ধপ করে বসে পড়েন তিনি মাটিতে । তার বিরুদ্ধেই এত চক্রান্ত ! তিনি তো কারোরই ক্ষতি করেন নি ! রাজার ওই দশা দেখে গজব মন্ত্রী এগিয়ে আসেন । মাথা নীচু করে বলেন , “ মহারাজা , আমরাই আপনার প্রমোদ উদ্যানে মালীদের সাহায্যে ওই বৃদ্ধ খোদাইকরের কাছ থেকে মূর্তি গুলি কিনে এনে রেখে দিয়েছিলাম ।”
-   “ কিন্তু কেন এসব করলে তোমরা !” চোখের জল মুছতে মুছতে রাজা জানতে চাইলেন ।
-   “ মহারাজা, দেশে শান্তি , সুখ সবই ভাল কিন্তু মানুষ অনায়াসে যদি সব পেয়ে যায় তাহলে রাজ্য তো বটেই মানুষেরও হয় ক্ষতি ।” মন্ত্রীর কথা শেষ হতেই রানী এসে বললেন , “ দেখত তোমরা শুধু খেতে, ঘুমাতে , সব গিয়েছিলে ভুলে । অথচ , তোমরা সবাই আবার তৈরী হতে শুরু করলে যখন বিপদ হয়ে গেল ।”
রাজা তখন মনে মনে ভাবলেন সত্যি তো আগের থেকে যদি সবাই প্রস্তুত থাকতাম তাহলে এমন হত না ! সত্যিই বুদ্ধিমতী রানী তার ।
সেদিন আর আনন্দ দেখে কে ! রাজা ফিরে পেয়েছেন তার তার প্রিয় পঙ্খীরাজ শ্বেতকে , অশ্বগুলিকে । সেগুলি আজব রাজের বিশাল উদ্যানের এক দিকে রাখা ছিল । রাজা খুশী মনে সেই বৃদ্ধ খোদাইকরকে প্রতিশ্রুতিমত স্বর্ণ দিয়ে ভরিয়ে দিলেন । কিন্তু বৃদ্ধের মনে অসন্তোষ !
-   “ মহারাজ আপনি কিন্তু প্রতিশ্রুতি রাখেন নি সব কটা । রাজকন্যা না নিয়ে তো যাব না !”
রাজা যে একথাটা ভাবেন নি তা নয় কিন্তু জরাজীর্ণ বুড়োর সাথে তার ফুলের মত রাজকন্যার বিবাহ ভাবতেই পারছেন না ! কিন্তু প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এক মহা অপরাধ । এমন সময়ে পিতার এই অবস্থা দেখে লক্ষ্মীর মত রাজকন্যে এগিয়ে এলেন বৃদ্ধ খোদাইকরের দিকে ।
-   “ আমার পিতা এবং এ রাজ্য কখনও ছোট হয়ে যাক তা আমি চাই না , আপনাকেই আমি বিবাহ করব ” বলেই বৃদ্ধের পায়ে হাত দিয়ে প্রনাম করলেন । আর অমনি ঘটে গেল এক আশ্চর্য ঘটনা । দেখতে দেখতে ওই বৃদ্ধ খোদাইকর মুহূর্তের মধ্যে এক অতি সুঠাম সুন্দর রাজপুত্রে পরিণত হয়ে যায় । আবার এক বিস্ময় । রাজা , রানী, রাজকন্যা, মন্ত্রী আমলা সকলেই হতবাক ।
তখন রাজপুত্র বলে , “ মহারাজ , রাজকন্যার স্পর্শেই আমি আজ অভিশাপ মুক্ত হলাম । আমি পাশের রাজ্য হিমেল গড়ের রাজকুমার ।”
-   “ হিমেল গড়ের রাজকুমারকে তো পাওয়া যাচ্ছিল না !” রাজা ধাতস্ত হয়ে বললেন
-   “ ঠিকই বলেছেন আপনি । আমি এক ভিক্ষুককে অপমান করেছিলাম বলে তিনি আমাকে অভিশাপ দিয়ে বলেছিলেন, দেখ বার্ধক্য কাকে বলে ! সঙ্গে সঙ্গে আমি বৃদ্ধে পরিণত হয়ে যাই । অনেক কান্নাকাটি করতে সেই ভিক্ষুক বলে , যদি লক্ষ্মীমন্ত কোন রাজকন্যা আমার চরণ স্পর্শ করে তাহলেই আমার মুক্তি ।”
রাজা জড়িয়ে ধরলেন রাজপুত্র অগ্নিকুমারকে । সবাই খুশী । রাজার নির্দেশে দূত ছুটল হিমেল গড়ে ।
শেষে এক বৈশাখী পূর্ণিমা রাতে সারা আজব ও হিমেল গড়ের মানুষকে সাক্ষী রেখে বিয়ে হল রাজপুত্র অগ্নিকুমারের সাথে রাজকুমারী পদ্মার ।

  অবাক কান্ড ! রাজকন্যা শ্বশুরালয়ে আসার পর থেকেই সেই জটা রাক্ষস , রোগ সব উধাও । ধন্য ধন্য করতে লাগল সবাই । সকলে বলতে লাগলো রাজকন্যা পদ্মাবতী সাক্ষাত মা লক্ষ্মী । সুখে বসবাস করতে লাগলো দুই রাজ্য ।।

ময়ূরকণ্ঠী প্রাসাদ

                                               ১ এ ক যে ছিল দেশ । ওই দেশের রাজা ছিল আজব , তার মর্জিও ছিল বিদ্‌ঘুটে । রাজার নির্দেশ মত ...