Posts

Showing posts from March, 2016

রাজা-রানীর পথ ও ওরা-তারা

রাজপথে তাহাদের মুখ! অগ্নুত্পাতে
তাদের নিঙরানো শরীরে ,
লাল গলিত নিষ্পাপ লাভা !
রাজপথে স্তব্ধ ভাষাহীন দর্শক -
লাভার তাপে-তপ্ত খণ্ডিত দেহের পাশে
মুখোশ পরা চোখে-নাকে,সিক্ত রুমালের
ফাঁকেই করুণা দৃষ্টি-তর্যা গানের আসরে -
ঘোষণা - তাদেরই ' আমরা ' !

' রাজা-রানীর পথে ', খোঁড়া পায়ে,পোকা
ধরা ঘায়ে শুকনো চামড়ার দিকভ্রষ্ট -
নাগরিকের প্রমাণ শুধুই ' ওরা ' ;
রাজা-রানীর ছায়া তাসের দেশে হুটারের  অমোঘ শব্দ যেন জানিয়ে দেয় আশ্বাসের
ফাইল-বন্ধী বাণী; ফাটা ঘায়ে যে রক্ত -
সেই কণিকারা জানে এটাই ' যুগ ধর্ম ' !

আশ্বাসে-বিশ্বাসে আবার চলে খঞ্জ ছন্দ;
থাকে ওরা রাজপথে,আগ্নেয়গিরির গলিত লাভার অথবা পুরনো জমাট কালচে
লাল লাভায়-অভ্যস্থ দুর্গন্ধ ধোঁয়ায় !

ধর্ষিত রমণী,বিবস্ত্র শ্রেণীগত মানব জীবন
পুনরায় চেয়ে থাকে নাগরিকত্বের -
প্রমাণ দাখিলে , রাজপথের এক কোণে ;
একসময় লাভায় গলে যায় দেহ-মন -
তবুও ' তাদের ' অপেক্ষায়,আগ্নেয়গিরির
শিখড়ে; শুধুই খাদ্য ও বাঁচার তাড়নায় !!

কাজল-লতা

বয়েসের কালিও হয়েছে গাঢ় -
নিস্তব্ধ রাতে ঘুমন্ত পাখী ডানার মতো ;
বুদ্ধির নিরিখ সমৃদ্ধিকে জানিয়েছে শূণ্য -
যেন তোমার দু'চোখের কাজলের আঁচড় !

রিক্ত করেছো হৃদয় তোমার শূন্যতায় -
অজস্র আদিম শূণ্যের মঝে ,
প্রহেলিকা কুয়াশা ঘেরা -
স্মৃতির নিগূঢ় নামহীন গভীর অতলে !!

চিহ্ন

পথের ধুলোয় পদচিহ্ন
খুঁজে বেড়াই ; সন্ধ্যে হলো -
ছুঁয়ে যায় আমার শরীর ,
একমুঠো ভালোবাসার আলো !

হাত ধরে পার করেছি
স্বপ্নের বাতাস !
মনে রাখা বড় কথা নয় ,
বালির চোরা রাস্তায় ভুলটাই ঠিক -!
সারা শরীর বহন করে চলেছে
অজস্র নামহীন চিহ্ন !

পারলে রাখিস মনে -
জুতোর মাপ হয়েছে বড়
তবুও , মন যে অবুঝ -
খুঁজে ফেরে ,
আলপনা আঁকা লক্ষ্মীর পা ,
পথে-ঘরের প্রতি ধুলোয় !!

হীরার নাকছাবি

Image
১“এবার হতচ্ছাড়াটাকে মেরে তাড়াব , দিলে রে সব সব শেষ করে, তিন্নি......”বাঙালি জীবনে সকালবেলা হরি নাম ,গলা সাধা, গরম পেয়ালায় চায়ে ফুঁ এইসব প্রায়ই চলে , কিন্তু তিন্নিদের বাড়িতে ভোর শুরু হয় ঠাম্মার হুংকার দিয়ে । আর হবে নাই বা কেন !প্রতিদিন রান্না ঘড়ের  দরজা খুলতেই দেখে গত রাতের জ্বাল দেওয়া দুধের বাটি খালি । এদিক ওদিক ছড়িয়ে থাকে ডাস্টবিনে রাখা খাওয়া এঁটো ।
-“ কি হল মা , আজ আবার কি খেল ? ” ঘুম জড়ান চোখে তিন্নির বাবা জিজ্ঞাসা করলেন ।-“ দেখ জগা , হয় ওটাকে রাখ নাহলে আমি বিদেই হই ”, ভারী গলায় জগদীশ্বর বাবুর মা উত্তর দিলেন ।যেটুকু ঘুম ছিল কথাটা শোনার পর তা আপাতত উধাও । মা বলে কি ! মিনমিনে গলায় উত্তর দিলেন , “ আহা , অমন কেন বলছ !”এক ধমক লাগালেন জগদিশ্বরী, “ একদম চুপ কর , তোদের আশকারাতে তিন্নিও গোল্লায় যাচ্ছে , ও বায়না ধরল আর অমনি বাপের মন মোমের পুতুলের মত গলে গেল ।”রান্নাঘরের বাইরে চুলটা জড়িয়ে খোপা বাঁধতে বাঁধতে তিন্নির মাও হাজির । যদিও প্রতিদিনকার ব্যাপার । খুব একটা অবাক না হলেও , আজ একটু বেশী মাত্রায় ব্যাপারটা ঘটেছে বুঝতে বাকী নেই । এমনিতেই , তিন্নির মা প্রিয়া কম কথা বলেন ।  আজ প্রায় বাধ্য হয়েই ব…

শূন্য ও তুমি

স্বপ্নগুলোকে মাটি দেওয়ার পালা ,
বাস্তবকে কাছ থেকে জানি -
তোমার চুপ করে থাকা কবরের সমান ,
শায়িত হবে আমার ' আমি ' !
শূন্য থেকে শুরু করে আবার শূন্যে -
মহাশূন্যের আহ্বান আর
নিষ্পলক চাহনি -
পেয়েছি উত্তর আমি !
থাকলো শুধু নতুন পল্লবের কাছে -
টুকরো চাঁদের মতো না বলা কথা !!

দীপাবলি

তারাদের আলো আজ নিভিয়ে দাও ;
  জ্বলে উঠলো হাজার লক্ষ কোটি বাতি -
             অট্টালিকা থেকে রাজপথ
         ভেসে যায় নব বধূর হাসির মতো I
            একটু দাঁড়াও , উঁকি দাও !
    ঝুঁকতে হবে তোমাকে , পারবে তো !
       লক্ষ কোটি সাঁঝবাতির আলোয়
       আজও জ্বলেনি আলো তাদের ,
                 প্রাণহীন চোখে -
তবুও বলি, মূল্যহীন মূল্য পড়ান-ওড়ানো
         অভিনন্দন  -শুভ দীপাবলি I I

বৃষ্টি

' বৃষ্টি ' তোমায় চিনলাম না -
' কুয়াশা ' আমি ভাবলাম তুমি ' শিশির ',
পথের মাঝে স্রোতের জোয়ারে -পাল ছেঁড়া নৌকার মাঝি বলে ,
         " সব এক " -
     কুয়াশা-শিশির-টুপটাপ বৃষ্টি
সবই মেঘ আর জলের প্রাচীন বন্ধুত্ব -
                   আর ,
হাল ধরা কাণ্ডারী জানায় -
             " সাবধান "
সুদূর সুনীল তরঙ্গের মাঝে ,
যেখানে চিতার ভস্মরা এক হয় ,
কুয়াশা-বৃষ্টি-শিশির পদ্মপাতার জলের মত ¦

ফোন

ফোন করলাম - ওপার থেকে ভেসে এল
                  " কেমন আছো ?"
ফোনটাকে বললাম - লোহার দরজার
            পিছনে ভলোই ছিলাম !
ক্ষণিক স্তব্ধতার পর বলল-" ভালবাস? "
            মেঘ ভেঙে বৃষ্টি পড়ছে ,
        আমার উত্তর শুনতে পেল না !
              শুধু ফোনটা দেখল -
             আমি হাসছি নিশ্চুপে !
     বাইরে তখনও মেঘ ডেকেই চলেছে!!

ঘুম নেই

ঘুম নেই ; চোখে ঘুম নেই -
সূর্যের আলোয় স্নান করে
পাখিরা যখন নিবিড় ভাবে পরস্পরের
চোখে ঘুমের রেশ টানে -
পড়শীদের গভীর পল্লবের মাঝেও ,
ঘুম নেই , জেগে রই নতুন দিনের আলোর গন্ধের জন্য , আশার আশে !

তারা দুটির মাঝে গভীর নিদ্রাহীনতায় জেগে থাকে আমার-তোমার মতো -
কিছু সহানুভূতি প্রত্যাশী , কিছু
দেব সৃষ্টি মানব-মানবী ;
ঘুম নেই ! তন্দ্রার সান্নিধ্যহীনতায়
নতুন করে উদ্ভব হয় পুনরায়
কিছু মানব-সমাজ !

ঘুম নেই ! চোখের তলার কালির স্পর্শ
স্পষ্ট করে বলে দেয় -
ওরা তকমাধারী পঙ্কিল সমাজের
" অবাঞ্ছিতের " দল  !
ক্লান্তি নামে ভুরুর নীচে, মস্তিষ্কের ধূসর
কোষ শ্রান্তির সুগভীরতায় " ক্ষুধাহীন " মানবের বুকে ,
 হয়তো কিছুটা বিষচক্রের তাড়নায় !

আর ঘুম নেই - নিদ্রাহীন আঁখি ক্লান্তির
করুণ ত্রাসে কখনো বা ঢলে পরে
দেব-সৃষ্টি পাখীদের জগতে ,
সমাজের সু-পাঁকের মাঝে !

চৈত্রবেলার গান

হৃদয় জুড়ে রাঙবে হৃদয় বহুকাল পর -
তবুও ফেলে আসা স্মৃতির
রেখাপথে ছিল যে পলাশ রঙা
হৃদয়খানি , আজ তা সেজেছে গোধূলি
রঙা চিত্রপটে  !

বাতাসে ভাসে আজ আবিল আবির
সৌরভ ;  খুঁজে ফিরি কত কণা উড়েছে
বেলাশেষে জীবন ব্রজে গতিপথে !

পাওয়া না পাওয়া অনেক চৈত্রবেলায়
মুঠো করি নানা কোমল রঙের
বসন্ত ; ফিকে হয়ে যাওয়া কুরুক্ষেত্রে
প্রলেপ পরে ভালোবাসার ফাগের মন্ত্র !

ভেম্পু গুম্ফায় চিত্রের খোঁজে মামা আর টুটুন

Image
১ সেবার হোস্টেল থেকে ফেরার পথে মনে হচ্ছিল যে আমি বাসে না নৌকায় চেপে ফিরছি । যত দেখছি ততই অবাক হচ্ছি । বিশাল বিশাল নদী যেন আমাদের ঘাড়ে এসে, গিলে খেতে চাইছে। হুম, টি-ভি, এফ বি মানে ফেসবুকে , অ্যাপে নানা জায়গায় ভিডিও দেখেছি ঠিকই কিন্তু এমন অবস্থায় নিজে ইতিপূর্বে পরি নি ! আমার কি হবে...এ দেখে মামা আসবে কি!! এ যে নিদারুণ বন্যা...হায় হায় এ কি !! নানা চিন্তা মাথার মধ্যে ঘুরপাক দিতে লাগলো। অনেক দিন পর পুজোর ছুটিতে বাড়ি ফিরছি।
গ্রাম এখন আর সেই আগের মত নেই, অনেক উন্নত। আর আমি শহরেই জন্মিয়েছি, শহরেই কিছুদূর পড়ে সোজা বাইরে, আমি যাতে ভালো মানুষ হই তার জন্য হোস্টেলে পাঠিয়েছে। বাসে বসে বসে বেশ মজাই লাগছিল। যেখানে যেখানে বৃষ্টি থেমেছে, জল উপচে পরছে সেখানেই ছেলে – বুড়ো সব্বার হাতে একটা করে ছিপ, মশারির ছেঁড়া অংশ, মাছ ধরছে আর হাতে ঝোলানো ডিব্বায় টুক টুক করে পুড়ছে। অবশ্য ছোট ছোট মাছ। আবার কোথাও বড় পুকুরকে বিশাল বিশাল জাল দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। বেশ দেখা যাচ্ছে, মাছ গুলো বেরোতে না পেরে তিড়িং বিড়িং করে লাফাচ্ছে। চারিদিক সবুজ। কোথাও কোথাও আবার খেজুর গাছগুলো যেন গলা জলে একপায়ে দাঁড়িয়ে আছে।
দেখতে দেখতে কখন যে বর্…