Monday, 7 March 2016

নীল রাজার দেশে

ডাক্তার বলছে, “মশাই অনেক হল,আর না,এবার বেশ কিছুদিন বিশ্রাম বুঝলেন”। বলল তো বটে

কিন্তু আমার এই কলম সঙ্গীটি বড্ড বেয়াড়া । তাও মনে মনে বললাম, “ভাই তুইও বিশ্রাম নে 

কিছুদিন”।

আমার ঘরটা বলা যায় একমাত্র উন্মুক্ত প্রাঙ্গন এই মুলুকে । প্রসস্ত ব্যালকনিতে খোলামেলা 

হওয়ার সাথে কাঠগোলাপের যুগলবন্দী শুধু যে মৌমাছিকে আকর্ষণ করে তা নয়- বোলতাকেও টেনে 

আনে,কামড় খেলে জ্বলুনি । যাইহোক, ডাক্তারের নির্দেশমতো ব্যালকনিতে বাবার আমলের 

ইজিচেয়ারে টানটান হয়ে বসে চোখ বন্ধ করে শরীরটাকে এলিয়ে দিলাম ।

কলিং বেলের আওয়াজ কানে এল । অলস চোখ দুটো না খুলে,বিভীষণকে,বললাম- “ দেখতো বাবা ”। 

এখানে বলি বিভীষণ হল আমার বন্ধু-সংগী-ক্যাকটাস । আমি বিগড়ালে কাঁটার জ্বালায় অস্থির 

করে আর শুনলে ক্যাকটাসের মাথায় ফোটে ফুল । ক্যাকটাস দরজা খুলতেই হাজির বোলতারা । 

আমার কিছু গুনমুগ্ধ, নাছোড়বান্দা পাড়ার বাচ্চারা।

পুজোর ছুটি শেষ । সামনেই পরীক্ষা । তাও সুযোগ বুঝলেই তাদের যাতায়াত একটু গল্পদাদুর আসরে

। আমিও খুশি । কারণ দুটো - সোশ্যাল সাইটের মাকড়সাজালে এরা বেশী আটকায় নি আর দ্বিতীয়ত 

এদের গুণগুণ করা প্রশ্ন-আব্দার আমার মগজকে সতেজ রাখে।

“ জ্যাঠু খবর কি ?”, চোখ না খুলেই বললাম- “কেন রে?”

“ আজ যে তালা-চাবি লাগিয়ে রেখেছো !”

বাধ্য হয়েই বললাম-“ না না বল ”।

“ তা আজ কি শোনাবে বলো ?”

“ আঃ ”। চোখ খুলে বললাম, “ একটু আস্তে বললেই হয় রে বাবা ”।

বুঝতে পারলাম একটু পরেই,ওরা অনেকক্ষণ ধরেই একই কথা বলছিল ।আমার কান মনে হয় একটু 

আধঘুম দিচ্ছিল ।


দ্বীপটার নাম- নীল রাজার দ্বীপ । সেখানকার মানুষদের রঙ আমাদেরই মত।কথায় পূর্ববঙ্গের 

টান আছে । তো,সেবার পোর্টব্লেয়ার থেকে উত্তর-পশ্চিমে সকাল সকাল দিলাম রওনা । নোনতা 

হাওয়ায় ডেকের উপর বসে নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে দেখতে এসে হাজির হলাম নীল দ্বীপে । আসলে 

পরাধীণ ভারতের ইংরেজ শাসক NEIL সাহেবের নামানুসারে এর নাম ‘ NEIL-ISLAND ’, আর আমি 

ভালবেসে বলি, ‘ নীল রাজার ছোট্ট দেশ ’।

“ এই তো শুরু করলে ভ্রমণকাহিনী ! Google দেখলেই informations পাওয়া যাবে ”। -রাগত গলায় 

এক আধ পাকা বোলতা রে রে করে উঠলো ।

এদের আর কি করে বলি,আজ যে শরীর দিচ্ছেনা । গলা ঝেড়ে বললাম, “ আরে শোন না,এসব তোদের 

Google-এ পাওয়া যাবে না । তবে মুখ বন্ধ করে না শুনলে ”-! কাজ দিল আমার ভারী গলায়।

সেইবার রাতে রাস্তা ভুলে আধ পাহাড়ি রাস্তায় এক সাহেব তার কটেজ খুঁজতে খুঁজতে হাজির হল 

সোনা আর রূপা মেশানো সমুদ্রতীরে । লোকে বলে, পুরাকালে বিশ্বকর্মার কারখানা ছিল এখানে । 

তাই আজও এখানকার বালির মধ্যে ধুলোর মত মিশে আছে সোনা-রূপার সূক্ষ্ম কুচি । তবে, হ্যাঁ, 

নিয়ে যাওয়া যাবে না একফোঁটাও ।

খানিকটা দম নিলাম । আমার বিভীষণ ভরতি পেয়ালা চা আর আমার বোলতাদের জন্য এক প্লেট 

পটাটো চিপস দিলো ভাগ্যিস । গল্পদাদুর গল্পের ঝুলিতে আজকাল ভাঁটার যে টান ধরেছে, গল্পের 

গরুকে গাছে তো ওঠাতে হবে ।

“ হ্যাঁ কি বেশ যেন! ”- গলা ঝেড়ে বললাম ।

“ ওই যে নিয়ে যাওয়া যাবে না ”।

আকাশে তখন এক থাল হলুদ চাঁদ । দূরে জঙ্গুলে পোকার একঘেয়ে নানা কথা বার্তা । মার্কো 

সাহেব কিন্তু ভীতু নয় । পায়ে গাবদা গামবুট, মাথায় কালচে সোনালী চুল, পরনের পশাক ওই 

cowboy টাইপের । সঙ্গীসাথী নেই । একাই বেড়িয়ে পড়ে, সাথে ইয়া একটা রুকস্যাক । 

সমুদ্রতীরে বালিগুলো জ্যোতস্নার আলোয় পুরো পরিস্কার দেখা যাচ্ছে । সাহেবের মুখের ক্লান্তি 

এখন আর বোঝাই যাচ্ছে না, বরং ঠোঁটে হাল্কা হাঁসি । পাড়ে আছড়ে পড়ছে বিশাল বিশাল ঢেউ ।

“ তারপর। তারপর কী হল ”- থাকতে না পেরে মুখ খুলল এক বোলতা । আমি হাসলাম ।

সেদিন রাতে মার্কো সাহেব ঠিক করলো “ MAN vs. WILD ” হবে । প্যান্টের আজানা পকেট থেকে 

ধারালো ছুরি বার করে পাড়ের কাছে কিছু শুকনো ডাল আর ছাউনির জন্য একধরনের কচু পাতার মত 

বেশ কিছু পাতা জোগাড় করে ছোটোখাটো আস্তানা করলো । চাঁদের আলোয় বেশ দেখা যাচ্ছে 

চারিধার । হাতের ঘড়িতে তখন বেশ রাত- সাড়ে আটটা ।

ক্লান্ত মার্কো কোনমতে আস্তানায় ঢুকে সঙ্গে আনা শুকনো খাবার আর জল খেল । পেটে কিছু 

পড়তেই ঘুমপড়ীরা এসে হাজির ।

খুট-খাট – খচ-মচ শব্দে ঘুমতা ভেঙ্গে গেল । একটু ভয় ভয়ও করছে । একে তো আজানা দ্বীপ। 

আগুন জালেনি তার উপর।ভেবেছিল সকাল হলেই কটেজটা খুঁজবে । আধবোজা চোখে বাইরে তাকালো । 

চাঁদ ঢলে পড়েচে,কিছুটা ম্লান আলো।মটামুটি দেখা যাচ্ছে ।

“ who is there, come on ”- মার্কো একটু গলা ভারী করে বললো । কিন্তু উত্তরে শুধু ওই খুট-খাট  

শব্দ ছাড়া কিছুই নেই ! বাধ্য হয়ে মার্ক বেড়িয়ে পড়লো তার সাধের ঘুম ঝেড়ে । চারপাশে চোখ 

বোলালো ।

“ wow, amazing !!”  অস্ফুট গলায় এইটুকুই বলে ওঠে ।

পূর্ণিমার ম্লান আলোয় দেখে সারা তটভূমি লালে লাল । যেন লাল উর্দি পড়া সৈনিক দল সার্চ 

করতে বেড়িয়েছে। ‘ Red sea crab ’- লাল কাঁকড়া । পূর্ণিমার আলোয় এদের অপূর্ব দৃশ্য । খাবারের 

সন্ধানে এরা প্রতি রাতেই বের হয়। ভাগ্যবানেরা পূর্ণিমার রাতে এদের ভালো করে দেখতে পায় । 

নীল রাজার দ্বীপে এদের অবাধ বিচরণ ।

মার্কো কেমন যেন ক্ষীদে ক্ষীদে লাগছে । অনেক আগে খেয়েছে । water bottle –এ যা জল আছে 

তাতে কোন মতে রাতটা চলে যাবে । দৌড়ে গিয়ে  মার্কো কিছু শুকনো ডাল-পালা জোগাড় করলো- 

সামনেই অনন্ত খাবার । কায়দা করে চার- পাঁচটা ধরলো । তবে বলা যতটা সহজ,কাজে করাটা বেশ 

কঠিন । পকেট থেকে লাইটার বার করে এই স্তুপ করা ডালপালায় বেশ কষ্ট করে আগুন ধরালো । 

সামুদ্রিক হাওয়ায় আগুন জালানো বেশ মুশকিলের,কিন্তু ধরে গেলে হু-হু করে জ্বলে যায় ।

সাহেবের আনন্দের সীমা নেই । কিন্তু, এখানেই হল ভুল । নীল রাজার দেশে এই হত্যা-রক্ত চলে না 

। বড্ড শান্তি প্রিয় জায়গা । মার্কো সাহেব তো খাচ্ছে চেটেপুটে roasted red crab, লক্ষ্য গেল 

তখন,যখন অদ্ভুত রিন রিনে একটানা আওয়াজ কানে গেল ।

“ কিসের আওয়াজ জ্যাঠু ”- একটু বিস্ময়ের গলায় প্রশ্ন করলো বোলতারা ।

দেখলো দূরে বিন্দু বিন্দু আল।ভ্রু কুঁচকে চোখ ছোট করল  মার্কো । একটু এগিয়ে গেল । আশ্চর্য 

আলোক বিন্দুগুলো একই জায়গায় স্থির,ঝিকমিক করছে । সাহেব এবার পরিস্কার দেখল দাঁড়া উঁচু 

করে মোটাসোটা নেতাগোছের কিছু লাল কাঁকড়া তাকে দেখছে !! তাদের চোখে আলর রশ্মি-একফোঁটা 

করে । এরা লাল হলেও গায়ে আবার গাঢ় নীল রঙের ডোরা কাটা। আওয়াজটা ওখান থেকেই আসছে । 

মার্কো বেশ মজা পেল। মুখে একটু কুটিল বেঁকা হাসি ।

“ God! These are bigger…yummy ”- মার্ক আওয়াজ করে বলে উঠে পেটে হাত বোলাল । ভয়টা 

অনেক আগেই গেছে ।

                                       


এদিকে চাঁদ গেছে অনেকটাই ছোট হয়ে । সমুদ্র এখন অনেকটাই স্থির । মার্কো ফিরে গেল সেই 

আস্তানায় । যখন ঘুম ভাঙল তাখন বেশ বেলা ; সামনে বিস্তৃত সমুদ্র । ঢেউ-এর মাথায় কে যেন দুধ 

ঢেলে দিয়েছে । সাহেব নিজের ব্যাগ গুছিয়ে বেড়িয়ে পড়লো তার কটেজের সন্ধানে ; পড়ে রইলো গত 

রাতে খাবারের টুকরো । আঁকাবাঁকা রাস্তা , বিশাল বিশাল গাছ- ঘাড় উঁচু করে তাকাতেই কট করে 

লাগে, হাঁটছে তো হাঁটছেই । সামনেই একটি ছোট্ট টিলা । এবড়ো খেবড়ো পথ পার করে মার্কো যখন 

কোনক্রমে টিলার চূড়ায় উঠলো তখন--

“ তখন কি? ”- প্রায় আর্তনাদ করে বলে উঠলো বোলতারা ।

“ দাঁড়ারে কখন থেকে বলছি,একটু দম নিতে দে বাপু ”-বলে উঠলাম ।

মার্কো দেখে এমন এক সমুদ্র,যার দৃশ্য ছবিতে আঁকা কোন এক পোট্রেট । সাদা- তুঁতে-সবুজ-নীল 

সব রঙ যেন একটার পর একটা সেজে উঠেছে । মার্কো ঘাম মুছে বসল একটু । পকেট থেকে 

মোবাইলের ম্যাপ বার করে দিক-নির্ণয়ের চেষ্টা করল । কারণ,সে শুনেছিল তার কটেজ এই 

দ্বীপের দক্ষিণ দিকে । মার্কর রাগে লাল,কারণ নেটওয়ার্ক থাকলেও GPS কাজ করছে না । আর 

ম্যাপে এই দ্বীপের কোন সন্ধান সে অর্থে নেই ; কি আর করা,চোখে দূরবীণ লাগিয়ে এদিক-ওদিক 

দেখতে লাগলো ওই উঁচু টিলা থেকে । হঠাৎ, আনন্দে চীৎকার করে ওঠে মার্কো । অনতিদূরেই 

একটি ছোট্ট কাঠের বাড়ি—পড়িমড়ি হয়ে ছুটল ।


সামান্য পাঁচ-দশটি পরিবারের আস্তানা এখানে ; জীবনযাত্রা অদ্ভুত, সংস্কৃতিও অবাক করার 

মতো । এখানে এরা পুজো করে কূমীরকে । বালিতে কুমীরের চেহারা তৈরী করে—

“ কেমন করে গো ? বালি দিয়ে কি ভাবে ”? – একজন বোলতা অবাক হয়ে বললো ।

“ আরে দেখবি পুরীর sea-beach-এ অনেকেই এমন সুন্দর শিল্প করেন । এই তো ডঃ কালামকে 

শ্রদ্ধা জানিয়ে করলেন এক শিল্পী, facebook-এ দেখিস নি ?”- উত্তর দিলাম ।

মার্কো সাহেব স্থানীয় লোকদের সাহায্যে কোনোমতে তার শোয়ার ঘর পরিষ্কার করল । বেলা পড়ে 

এসেছে । একজন লোক, নাম বাদলা, লন্ঠন দিয়ে গেল । এই দ্বীপে এখনো electricity পৌঁছায় নি ।

“ হে বাডলা, খাবার কখন ডিবে ?”- মার্কো ভাঙা বাঙলায় জিজ্ঞাসা করলো ।

“ সাহেব সাতটার মধ্যে ”- বাদলা কথাটা বলে সটান দিলো ।

ঘরটা মোটামুটি আলোয় পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে এখন । মার্কো তার ব্যাগ থেকে একটা প্রায় জীর্ণ 

ম্যাপ বার করে আলোর সামনে মন দিয়ে দেখতে থাকলো, আর খাতায় কি সব হিসাব নিয়ে মশগুল 

হয়ে পড়লো ।

“ সাহেব খাবার ”- বাদলার আওয়াজে মার্ক সজাগ হল । দেখল, বাদলার চোখ তার ম্যাপের দিকে ।

“ বাডলা,can you ..I mean বলটে পাড়বে এই island-এর north mean, উঠরে কি ভাবে যাবো ?”

“ সাহেব কেন ?” বাদলার গলায় ভয়-বিস্ময় জড়ানো ।

“ কাজ আছে-Gold, gold –I want all these ”- মার্কো একটু চাপা তীক্ষ্ণ গলায় বলে ওঠে ।

“ If you say—টাকা দিব ”- আবার বলে মার্কো ।

বেচারা বাদলা ‘ GOLD ’ আর ‘ টাকা ’ ছাড়া কিছুই বুঝল না । কারণ, এই রকম আগেও দু-তিন জনের 

ভীণদেশীর গলায় সে শুনেছে । আশ্চর্য  হয়ে থম থমে বলে, “ যাবে না সাহেব, এটা নীল রাজার 

দেশ,এখানে এসব হয় না ”।

মার্কো তাকে চেপে ধরে । ধারালো হাসি হেসে বাদলার হাতে টাকা গুঁজে দেয় ।

“ বাডলা বল ”- চমকে ওঠে সে মার্কোর ভারী ধাতব আওয়াজে । আঙ্গুল তুলে দিক ইশারা করে 

দৌড়ে বেড়িয়ে যেতে যেতে বলে উঠল, “ যাও সাহেব,কিন্তু কিছু নিও না ”।


সূর্য উঠেছে অনেকক্ষণ ; দ্বীপে সূর্য ওঠে আগেই । বাদলা উঁকি মারল মার্কর ঘরে, খোলা দরজার 

ফাঁকে দেখল ঘর খালি । আধ-খাওয়া খাবার । লণ্ঠনটার চিমনি ধোঁয়ায় কাল হয়ে গেছে ; ব্যাগ নেই । 

বাদলা ঘাড় দোলালো আজানা হতাশায় ।

রাত থাকতে থাকতে মার্কো পাহাড়ী-বুনো রাস্তায় বেড়িয়েছে । কি যেন তাকে টেনে নিয়ে চলেছে । 

হাত দুটো বুনো কাঁটায় রক্তাক্ত ।তাও থামবে না মার্কো । হঠাৎ একটা মোড় ঘুড়তেই সাহেব 

উল্লসিত হল । সামনেই সমুদ্র- “GOLD ISLAND”; বালিতে বালিতে সোনা ।

ম্যাপ আর কম্পাস বার করে দেখল যে সে ঠিক জায়গায় হাজির । হাসতে হাসতে সোনা-বালিতে 

মার্কো শুয়ে গড়াগড়ি  দিতে লাগলো-লাফালো । চিৎকার করে বলে উঠলো-  “I am, I am! Winner- 

milliner……..”।

ওই ম্যাপ আর কাগজে অদ্ভুত ভাষায় বলা আছে, কখন,কি ভাবে সোনা বালি থেকে আলাদা করা 

যাবে । পূর্ণিমার শেষ তিন রাত আদর্শ সময় । আজ শেষ রাত । অধৈর্য হয়ে ওঠে বিদেশী মার্কো, 

কখন সন্ধ্যা হবে ! সময় যেন কাটছে না !

আকাশে পূর্ণিমার শেষ ফ্যাকাসে উজ্জ্বল চাঁদ । কিছুটা যেন অন্ধকার চাঁদের মুখ ।

মার্কো মুখ কিন্তু উজ্জ্বল-উত্তেজনায় ভরপুর । সামনেই বালির ঢিবি,সোনালী আলোয় চিকচিক 

করছে । ছুটল মার্কো । বালির ঢিবিতে পা দুটো ভারী গামবুটের চাপে একটু বসে গেল ; হাত দিলো 

বালিতে । হাত দুটো উত্তেজনায় কাঁপছে । দেখল, হাতের পাতায় সোনার গুঁড়ো । আবার সে হাঁট 

ডোবায়- সোনা আর সোনা । মার্কো লাফাতে লাগলো, গুণগুণ করে তার ভাষায় গান ধরল ।

সম্বিত ফিরে পেল সেই পুরনো রিন রিনে শোনা শব্দে ; দেখল, বালির মধ্যে পা দুটো ডুবে যাচ্ছে ,কে 

যেন পা দুটো আঁকড়ে ধরে বালির মধ্যে টানছে- চীৎকার করতে চাইলেও গলা দুটো চেপে ধরেছে...।

“ ওই অঞ্চলে এ সময় সাদা কুমীর বের হয় । পাড়েই ঘোরে...” আমি বললাম ।

“ তারপর কি জ্যাঠু ”- চোখ কপালে তুলে বলতেই, আমি হাত নেড়ে থামিয়ে দিয়ে বললাম , “ তারপর 

থেকে ওই অঞ্চলে আর কেও চুরি করে নি ”।

“ ঠিক হয়েছে , যারা প্রকৃতিকে ভালোবাসে না, প্রকৃতিও তাদের বন্ধু হয় না ”।

No comments:

Post a Comment

মহাভারতে অর্জুন থেকে বৈদিক যুগে নৃত্যকলা

আধুনিক জীবনে নৃত্য আমাদের সকলের কাছে মনরঞ্জনের জন্য এক বৃহৎ মাধ্যম । কিন্তু এই শিল্পের শিকড় খুব যে আধুনিক নয় তা আমরা জানি । বেদ থেকে...