Monday, 25 April 2016

চাতক

আমি তোকে সত্যি ভালবেসেছি -
তারপরেও মদিরাসক্ত চোখ
খুঁজে চলে অভিমানী মেঘের মতো
নানা প্রশ্ন ; সম্পর্কের ইতিহাসে
শুষ্ক মাটি আর কলম আঁচড়
কাটে এ মনের ঈশান কোণে !

যদি একবার তোর চোখ কেঁদে
ওঠে কালবৈশাখীর পর অপেক্ষমান
বৃষ্টির মতো ; দেখবি আজও
আছি তারাদের বুকে হাজার
বছরের গণনাহীন পুঞ্জীভূত মৃত
আলোর জীবনালেক্ষে ; শুধু বিশ্বাস
রাখিস ; করিস একটু অপেক্ষা !!

Thursday, 21 April 2016

পলাতক

যেদিন তুমি ডাকবে আমায়
সেদিন আমি নাই -
পালখানিতে লেগেছে হাওয়া ,
নদীর সুরে গান গাওয়া ,
জোয়ার জলে ভেসে যাওয়া
আজ যে আমি নাই !

নিশার মাঝে তুমি-আমি চোখে চোখে -
গান গেয়েছি ভালোবেসে ,
সুর দিয়েছি তোমায় হেসে ,
প্রভাতকালে দেখি,তরী গেছে তোমায় রেখে !

যেদিন হাত বাড়িয়ে দেখবে,সেদিন আমি নাই -
তোমার-আমার মনের মাঝে ,
স্বপ্নগুলো হওয়ার কাছে ,
হারিয়ে গেল কোন নিঠুর কালে যেদিন তুমি নাই !

চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে -
আকাশ পানে চেয়ে দেখো ,
তারার মাঝে খুঁজে রেখো ,
সেদিন আজ ডাকছে,যেদিন তোমার
হাতে আমি আর নাই !!

Tuesday, 19 April 2016

অন্তর্লীন

কান্নার শব্দ শুনতে কি পাও ?
গলা অবধি কান্নার ভাষা কি বোঝো ?
যদি বুঝতে,তাহলে বারবার চুম্বন করতে !
লাল-নীল স্বপ্ন ভেঙে মাঝরাতে -
দেখি ধর্ষণ করেছে সময় !!

গলাকাটা মানুষের ভিড়ে হয়তো মরচে
হৃদয় হাতে বিক্রি করছি প্রতিনিয়ত -
আমাকে নেবে কি তোমার অধর-ওষ্ঠের
সংগমস্থল ! যেখানে তির তির করে ,
স্পন্দিত হয় পাহাড়ী নামহীন ঝর্ণার ছন্দ !

জানি,ছুঁড়ে ফেলে দেবে -নির্যাসের পর ;
তারপর ! নেই কোন উত্তর -
বেশ্যা ঘরের গত রাতের বাবুর মতো
কালচে বেলকুঁড়ির মালার পরে থাকবো!!

Monday, 18 April 2016

হাত

 তুমি যে বললে হাতের উপর
নিঃশ্বাস নেবে তোমার হাত !
কি হলো , প্রশ্ন করবো না ;
আসলে,ওয়ারড্রবে রাখা মুখোশ যে
নানা কথার সাক্ষী ,তা আজ নতুন নয় !

রাতের গভীরতায়,ছোট্ট বিছানায় আমাদের শরীর ছাড়ে সাপের মতো যে
খোলস - সেটাই,আমি-তুমি !

"একা" শব্দটা বহমান বর্ষার নদী ;
হঠাত কোন অজানা খাতে-ফুটপাতের
ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া ক্ষুধার্ত শ্রেণীর মত ;
সম্পর্কের ইতিহাসে,প্রাগৈতিহাসিক "একা"
আরেক একার সাথে বহুবার মিলিত হয়েও,হাজার একারা বারংবার নেয় জন্ম!

হাতের উপর হাত রাখাটাও বড্ড কঠিন ;
অজস্র চোরাগলির ভিড়ে হারায় -
কত নাম না জানা ক্ষয়িষ্ণু পদচিহ্ন !
তবুও এসো এবার ,ছদ্মবেশী মুখ ,
তোমার-আমার হাজার বছরের
না শেষ হওয়া কথা বলবে  পুনরায় !!

Sunday, 17 April 2016

কৃষি কথা

কোন এক গ্রীষ্মের দিনে -
যখন ধরিত্রী সম্পূর্ণ নিস্তব্ধ একাকিনী ,
যখন , বিদ্ধস্তা - বিবস্ত্রআ -
ভালোবাসার শেষ জলটুকু শুষ্ক -
তখন তোমায়,সংকোচে সংগোপনে
রোপণ করেছিলাম আলতো দুটি
আঙুল দিয়ে ,আমার মনের মাটিতে ;

তারপর !তারপর যখন তোমার কচি কলাপাতার মতো ছোট্ট দুটি হাত আমার নির্জীবতাকে সজীব করলো , তখন -
বিস্ময়ে বললাম -"এত প্রাণশক্তি কোথা হতে তুমি পেলে ?" উত্তর পেলাম না !
অনুভব করলাম সেদিনকার নরম দুটি হাত অজস্র শাখায় বিভক্ত হয়ে -গভীর শিকড় দিয়ে মাটির কোনো এক অতল থেকে শুষে নিচ্ছে বিন্দু বিন্দু ভালবাসা !

এসব কবেকার কথা ; জীবনের একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ,হয়তো শেষ বসন্তের শেষ হাওয়াকে নিচ্ছি প্রাণভরে  !
একটা একটা করে কত সূর্য ডুবলো ;
অঙ্কুর হল মহীরূহ ; হলদে পাতায় কত কথা ;আমরা দুজনে কথা বলি,চিন্তা করি,
সবাই যেমন শেষ দিনে শেষ কথা বলে...!

সেইবার শরতে,তাকে দেখেছিলাম ভোরে সদ্য স্নাত হয়ে - কপালে চন্দনের ছোট্ট ছোট্ট ফোঁটা পরে মাথা নত করে দাঁড়িয়েছিল ; আহা!কি ন্যাকাটাই না লাগছিল ! নরম দুটি গালে হাত রেখে বলেছিলাম-" কি গো,অমন করে দাঁড়িয়ে কি দেখছো?" সেদিন তোমার কি হাসি ;

খসে পড়ছিল চন্দনের ক্ষুদ্র টুকরো -
আমার মনের মাটিতে ! আর যখন চোখ খুললাম ; ওগুলো কখন অগোচরেই হলদে পাতায় হয়েছে পরিণত !

হয়তো,কোনো একদিন প্রবল ঝড়ে ঝরে পড়ব আমরা - এই মাটি থেকে অন্য কোনো এক মাটিতে ! হয়তো সেদিনের রোপিত স্মৃতি হয়ে যাবে টুকরো টুকরো -
স্মৃতিগুলো সব বিস্মৃতি হয়ে যাবেই !
তবুও থাকবো আমরা এরই মাঝে -
ধরার হৃদয় পিঞ্জরে ,
আমাদের ঝরে পরা স্মৃতির
 নতুন বীজের মাঝে নব সূর্যের অপেক্ষায়!

Friday, 15 April 2016

তুমি চলে যাওয়ার পরে

তুমি চলে যাওয়ার পরেও আকাশ দেখি !
ধূলো ওড়া মুরুর বক্ষে শুনি তোমার স্পন্দন ; তাল-খেজুরের মাদকতায় প্রথম
মিলনের আবেদন! মায়াময় রাতে বলি -
আছো কি আজও ? নিরুক্ত রাত ডোবে,
আমার হাফ গ্লাসের প্রতি জোড়ালো চুম্বনে -ঘোলাটে চোখে দেখি তোমায় !

ঘর ছেড়ে পাতা ঝরা গাছের তলায় স্পষ্ট তোমার নৈসর্গিক অণুকাব্য -
একি সত্যি ! সত্যি তোমারই উপস্থিতি !

অবৈধ ভাষার পাতার রবে প্রেম গণনা করি - না বোঝার মাঝেও দেখি ;
একবার এসো - পৃথিবী কত পাল্টাচ্ছে -
পাল্টিয়েছে অবয়বেও ! দরজা খোলা ,
পারলে এসো - একমুঠো বালির মত পুনরায় দেব ভালোবাসার সংকলন !!

Tuesday, 12 April 2016

সন্ধান

হাজার মুখোশ পরা চেনা মানুষের ভিড়ে
               খুঁজে চলেছি -
ধরা দিলেও , ছেড়েছি বারে বারে
তাই , শরতে ভোরের ফুলে আঘ্রাণে শুধুই খুঁজি তোমায় ; সবই ভুল, ক্লান্ত আমরাই আমি ; একফোঁটা শান্তি একফোঁটা মৃত্য -
             অশ্রু অবিশ্রান্ত !

ভাল থেকো তুমি , শিউলি স্নিগ্ধ মাঝে -
হিমেল হাওয়া পাহাড়ী নদীর পেলব স্পর্শ শীতল হোক তোমার উষ্ণ বক্ষ -
          অ-মুখোশের কাছে II 

Monday, 11 April 2016

দুষ্টু হরিণ ছা আর কৃপণ চাষি


Image result for pencil sketches of baby deer


এক চাষির ছোট্ট একফালি জমি ছিল । প্রতিদিন ভোর থেকে বিকাল অবধি সে খুব পরিশ্রম করে নানা ধরনের সব্জি চাষ করত । ফসল বেচে যা পেত তা দিয়ে কোনরকমে দিন তার আর চাষি বৌয়ের কেটে যেত ।
চাষি পরিবার শুধু নিজেদের কথাই শুধু ভাবত । প্রতিবেশীদের সাথে ছিল না কোন সদ্ভাব । কারণ তারা ছিল বেজায় কৃপণ । ক্ষেতের একটি ফসলও কাওকেই দিত না । নষ্ট হয়ে মাটিতে পরে থাকলেও কাক পক্ষীদের উপায় ছিল চেখে দেখার ! এ নিয়ে পাড়ায় নানা কথা-ঠাট্টা হত । কিন্তু চাষি পরিবার ওসব কথা পাত্তাই দিত না । মনে মনে দেমাক নিয়ে বলত , ‘ কেন দেব ! কষ্ট করি আমরা ! নিতে হলে টাকা দিয়ে নিয়ে যেতে পারে !’


চাষি পরিবার যে গ্রামে থাকত তার ঠিক পাশেই ছিল একটা গভীর জঙ্গল । জঙ্গলে হরেক পশু পাখী সুখে দুঃখে বাসা বেঁধে রইত । নেকড়ে বাঘ থেকে শুরু করে হরিণ । কাক থেকে তোতা-ময়না সকলেই জঙ্গলের খাবার ভাগ বাটোরা করে খেত । ঝগড়া–বিবাদ যে হয় না তাদের তা কিন্তু নয় !
এই তো সেদিন হরিণ ছানা মায়ের কথা না শুনে নেকড়ে বাঘের হাত থেকে কোন মতে বাড়ী ফিরেছে । বাবা কত বকলেন তাকে । মা হরিণ বললেন –


“ এমন যদি কর তুমি –আড়ি তবে, কথা বলব না আমি ।”


হরিণ ছানা কেঁদে চোখ লাল করে মা-বাবার পায়ে হাত দিয়ে বলে –


“ আর করব না দুষ্টুমি –আমায় ছেড়ে যেও না বাবা ও তুমি ।”


ছায়ের আদো আদো কথায় সব রাগ ভুলে বাবা-মা ছেলে আনন্দে জড়িয়ে ধরে কত করে সারা গা জিভ দিয়ে চেটে দিল ।


হরিণ ছায়ের প্রিয় সাথী ওই জঙ্গলের এক টিয়া পাখীর ছা । টিয়া দম্পতি হরিণ পরিবারের ফ্যামিলি ফ্রেন্ড । প্রতি রবিবার তারা একসাথে পাকা পাকা ফল খায় , নানা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করে ছা’দের বিষয়ে ।


টিয়া আর হরিণ ছা সেই সুযোগে কানামাছি , লুকোচুরি খেলে ।
টিয়ার ছা ঠোঁট দিয়ে পাকা ফল বন্ধুকে উপহার দিয়ে বলে –


“ তুই-আমি প্রানের সখা আমরা –বিপদে সঙ্গ দিব পরস্পরে মোরা ।”


এ ভাবেই দিন রাত কেটে যায় । টিয়া ও হরিণ ছাও একটু একটু করে বড় হয়ে ওঠেকিন্তু হরিণ ছা যত বড় হতে থাকল ততই সারা পাড়া কাঁপিয়ে দৌড়াদৌড়ি দুষ্টুমি করে একসা । আগে তাও বাপ-মায়ের কথা শুনত । আর এখন ! কিছু বোঝাত গেলেই সে বলে –


“ দেখছো হচ্ছি বড়, মাথা জোড়া শিং –বেশী বকলে আর কথা কব না কোনদিন ।” কী আর করা ! একদিন প্রানের বন্ধু টিয়া পাখীর ছা শান্ত গলায় সতর্ক করে দিয়ে বলল –


“ যা করিস ভাই কর –কিন্তু যাস না ওদিক পানের পর ।”


হরিণ ছা বন্ধুর কথা শুনল বটে কিন্তু মনের কোণায় দেখা দিল কৌতূহল ওদিকে বন্ধু নিষেধ করেছে ! বাবা-মাও ছোট থাকতেই একথা বলেছিল ।


একদিন বিকালে নরম নরম ঘাস খেতে খেতে হরিণ ছা একদম জঙ্গলের শেষ সীমানায় হাজির । খেয়ালই করে নি যে এতদূর চলে এসেছে । ঘাড় উঁচিয়ে এদিক ওদিক দেখতেই নজরে এল ওই কৃপণ চাষির ক্ষেতে সব্জি ফলে আছে । সেদিন কী যেন চিন্তা করে সে বাড়ী ফিরে যায় ।



কয়েক বছর আরো পরিশ্রম ও ভালো বিক্রি বাটা করে চাষি পরিবারের অবস্থা আগের থেকে অনেকগুণ ভালো হয়েছে । কিন্তু তার সাথে সাথে কিপটেমি গেছে আরও বেড়ে । তাকে এখন সবাই কৃপণ চাষি বলেই চেনে ।


একদিন রাত হতেই ঘড়ের বাতি নিভিয়ে চাষি পরিবার আরাম করে ঘুমাতে যায় । আর ওদিকে হরিণ ছা অনেকদিন ধরেই প্ল্যান করেছিল ওই ক্ষেতেই ঘুড়ে আসবে । সেদিন তো দেখেই এসেছিল যাওয়ার রাস্তা । তাই আজ মা-বাবা-বন্ধুকে না জানিয়ে ক্ষেতের মধ্যে ঢোকে ধীরে ধীরে ।


দূর থেকে যা সেদিন দেখেছিল আর আজ কাছ থেকে এত ফসল দেখে তো হরিণ ছা আত্মহারা । পটাং পটাং করে নেচে উঠল । ঘাস খেয়ে খেয়ে মুখে অরুচি ধরে গেছে !তাই আর কোন কথা না বলে জমির প্রায় আর্ধেক ফসল খেয়ে তো নিলই , বাদ দিল না একটা গাছও ! খেয়ে তো পেট ভুলে জয়ঢাক । বাড়ীতে হেঁটে যাওয়ার অবস্থা দূর , নড়বারই ক্ষমতা নেই ! তাই সে চিন্তা করল রাতটা এখানে কাটিয়ে ভোরের দিকে একটু হজম হলেই সবার চোখ এড়িয়ে বাড়ী ফিরে যাবে । যা ভাবা তাই কাজ ।


‘ টিয়া বন্ধুকে বলার কোন মানে নেই । ওদের বাবার সন্ধ্যের বাড়ীর বাইরে বেরোতে মানা আছে কড়া ভাবে ’ একথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ল সে ।


এদিকে সকালে আলো অনেক আগেই ফুটে গেছে । প্রতিদিনের মত চাষি জমিতে আসে । আর এসেই তো চক্ষু চড়কগাছ ! এ কী সর্বনাশ ! নিশ্চয়ই এ হতচ্ছাড়া প্রতিবেশীদের কাজ ! সব ফসল নষ্ট করে দিয়েছে । চাষির হাঁক ডাকে তার বউ ছুটে আসে । একটু বাদেই তারা লক্ষ্য করল সেই হরিণ ছানা নাক ডেকে পেট ফুলিয়ে ঘুমাচ্ছে ।



হরিণ মা-বাবা তো ব্যাকুল হয়ে উঠেছে । কত ডাকা ডাকি করল তারা কিন্তু তা সত্ত্বেও তাদের ছা সাড়া দিচ্ছে না ! টিয়ারাও হাজির ওদের উদগ্রীব আওয়াজ শুনে । সব শুনে টিয়ার ছা বলে ওঠে –


“ বন্ধুর হয়েছে নিশ্চয় বিপদ –আনছি খবর, ধরেছে কোন আপদ !”


এই বলেই সে ডানা মেলে শন শন করে উড়ে যায় ট্যাঁ ট্যাঁ করে বন্ধুর নাম ধরে ডাকে । টিয়া ছায়ের অনুমানই ঠিক ! চাষি পরিবার তার বন্ধুকে ধরে ফেলেছে । তাদের বাড়ীর চালে বসে শুনল , তারা নাকি হরিণকে মেরে রাতের বেলায় মাংস খাবে ।

বাঁচাবে কি ভাবে ! বেলা যে বয়ে যায় ! বন্ধুকে বাঁচাতে হবে যে করেই হোক । টিয়ার ছা উড়ে গিয়ে হরিণ বন্ধুর কাছে উড়ে গেল । হরিণ বন্ধুকে দড়ি দিয়ে বাঁধা । টিয়ার ছা তার লাল শক্ত ঠোঁট দিয়ে কুটকুট করে দড়ি কাটতে লাগল আর বন্ধুকে বলল –

“ ভাই লাগাও একটু জোর টান –দড়ি গেছে প্রায় ছিঁড়ে, হবে খান খান ।”


হরিণ ছা তা করতেই পটাং করে ছিঁড়ে গেল । কিন্তু চাষি শেষমেশ দেখে ফেলে । সে দৌড়ে এসে যেই না ধরতে গেছে আর অমনি হরিণ ছা দিল তাকে কয়েক ঘা শিঙের গুঁতো । আর টিয়া ছা দিল চাষির নাকে কটাস করে এক কামড় ।


“ বাবা গো ” বলে চাষি নাক ধড়ে মাটিতে বসে পরতেই টিয়া আর হরিণ ছা এক দৌড়ে ফিরে গেল জঙ্গলে ।


জঙ্গলের সবাই খুশী । টিয়ার ছায়ের দিকে তাকিয়ে হরিণ দম্পতি নিজের ছেলেকে বলল –


“ শোন বন্ধু হলে এমন চাই –সুখে দুঃখে সর্বদা পাবে তাই ।মা বাপের কথা করতে নেই অমান্য –নইলে সারা জীবন হবে না অগ্রগণ্য ।”

হরিণ ছা এবার উচিৎ শিক্ষা পেয়ে প্রতিজ্ঞা করল আর কখন অবাধ্য হবে না ।এই শাস্তি তাকে প্রকৃত শিক্ষা দিয়েছে ।।

Image result for pencil sketches of indian male farmer

অরণ্য প্রশ্ন


যদি তোমার কাছে যাই অরণ্য আবার ফিরে?শুকনো পাতার শয্যায় যদি পুনরায়
যদি সাজাই শয্যা !
জানি তুমি অনাদিকালের মতো স্তব্ধ -
বাতাসের উত্তরে,শুনি তোমার বালখিল্য
হাসি; তুমি হাসছো অরণ্য !!
সবই কি আমার প্রতি তোমার ঘৃণা !
কেন?এ উত্তর আমি জানতে চাইব না ;
সজীব পত্রের প্রতি উপশিরায় যে
প্রাণশিখা আজ তোমার অস্তিত্বের
পরিচয় দেয় সব কি ভুল ?
অজানার আহ্বানে হয়তো তুমি দিয়েছ
প্রশান্তি !আমি কি তারও বাইরে
কোন নির্জীব মন !
প্রতি রাতে তোমার গভীর নিশীথের
মতো ভালবাসা ,কার জন্য !
আমায় স্বার্থপর করেছো -এ কি তোমার
প্রতিশোধ ?না ,আমার মনের কুয়াশা ;
তাও ফিরে আসি শ্রান্তির পড় -
কোন এক পাতা ঝরা দুপুরে !

Saturday, 9 April 2016

একান্ত-নিরালায়

একান্ত নিরালায় নগ্ন মাতৃমুর্তি -
' তোমার ' অধিবাস, নবপত্রিকার মাঝে ,    ন 'টি গলিত বোধনের শব !

একান্ত নিরালায় , স্ব-বাহিনী মাতৃমুর্তি - সন্ধিপূজার লগ্নে , সুগন্ধির ছোঁয়ায় ,
ঢাকের বাদ্যির ছন্দে আর্ত ভিখারীর আবেদন !

নির্জনে ' পাঁচটি চোখের ' কথায় -
ক্ষুধাতুর শিশুর দেবী গান !
তোমার সিন্দুর চর্চিত কপালে,চূর্ণ চিকুরে, বিসর্জন - আর ....
আমাদের সকলের নূতন বিজ্ঞাপন চর্চা ;

মা আসবে , বিজ্ঞাপন বিকোবে -
নির্জন-নিরালায় একান্ত সংগোপনে ,
পাঁচটি চোখের নির্জলা ভাষায় শুরু হবে
নতুন দিনের নব অধিবাস !

হয়তো সেদিন সব ' শব ' শেষ হয়ে যাবে ,
থাকবে, তোমাদের-আমাদের ইথারে ভেসে আসা প্রেমের মন্ত্রধ্বনির মধ্য দিয়ে
নবপত্রিকা আর ক্ষুধাহীনদের "মাতৃবন্দনা"!

Friday, 8 April 2016

বাঘের গল্প

এসো একটা গল্প বলি -
হাউ মাউ করে এক বাঘ বলল ,
সৃষ্টির শুরু থেকে আমরা উলঙ্গ,জৈবিক প্রবৃত্তির স্বাদ মেটাই নির্দিষ্ট সময়ে -
ক্ষিদে পেলে আরেক নগ্ন জাতিকে খাই !

তখন,গর্জন শোনা গেল অপর প্রান্তে !
বাঘ বলল -ঐ যে আসছে মান-হুঁশ বাঘ; আদম-ইভের যুগে বা প্রসবের পরে -নগ্ন থাকলেও হয়ত সিভিলাইজেশনের পোশাক পরে আর ক্ষিদে পেলে সব পেটে যায় - ফুটপাতের ময়লা মানুষ পশু অথবা ক্ষীণ-দুর্বল জাতভাইয়ের - চুকচুক করে পান করে টকটকে নোনতা শোণিত -
            হাড়ও যায় না বাদ !

       আসলে পার্থক্য কি জানো ?
     বুনো আর মানুষ বাঘদের মধ্যে!
বুনোটা 'কথিত' সভ্য হয়নি ,তাই ষে উলঙ্গ মুখোশহীন,লেজ টানলে মাথাটাও আসে;আর ' ওরা ' -
বাঘের চামড়াধারী সেই গল্পের গাধার দল; সময়ে সময়ে হাঁক পাড়লে ' বাপস ' বলে !

দিই কানে আঙুল ! মুশকিলটা হচ্ছে -
লেজ নেই বলে কান-মাথা আসে না !
     রাজত্ব চালায় বীর বিক্রমে  -
কানে দিতে ভয় হয়,যদি তাও খুলে আসে তাই , জ্ঞান দিলেও আমরা তালা কিনি -
   আর জমিয়ে চোখ বুজে কানে গুঁজি !!

Thursday, 7 April 2016

উপকথা

অনেক না বলা কথা ,সময়ের মায়াজালে
বলে কথা -
অনেক চাপা নীরবতা ,গতির ভালবাসায়
কথা বলে !
দু'ধরনের কথা বলার মধ্যে থাকে নানা মাপের অনেক উপকথা ;
একদল নির্বাক! অথচ চোখ ওই কাহিনীর
অর্থ বিস্তার করে !

আরেক দলও নির্বাক অথচ মুখের শব্দ -
পরনের বস্ত্রের মত কথার বুনোট তোলে!
সারিবদ্ধ " মানুষ " নামক জীবরা -
যুপকাষ্ঠে কথা বলে
চাকুম-চুকুম ছন্দবদ্ধ শব্দের
বিভাবরী ক্ষণের মধ্য দিয়ে ,
একটু একটু করে ,
কুকুরের সঙ্গে লড়াই করে -
না তাকিয়ে কোনদিকে !
এরাই হল আমাদের মতো
তকমাআঁটা " মনুষ্য " নামক জীব যারা ,
ময়লা খাদ্যের স্তূপে , নিশ্চুপে
কাঁটা চামচের মতো হাত দিয়ে
শৈল্পিক ভাবে মুখ ভর্তি করে !

ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া স্বাধীনতাত্তোর
অবৈধ সন্তানেরা পচা বিরিয়ানির প্যাকেটে  নিবৃত্তি করে,আগামী সূর্যের দিকে জানায় আবার হতে পারে জন্ম !

কঙ্কালসার আঙুলের সশব্দ চারণা করে ডারউইনকে বাঁচানোর তাগিদে -
হয়তো বা , সাহিত্যের ক্যানভাসে
ভাষার জন্য , অসংখ্য নিরস ,
বাহবা ধ্বনির অবুঝ প্রতীক্ষায় !!

Wednesday, 6 April 2016

একটুকরো বন্দনা

তোমার কমলসম পাদপদ্মে আমার বাসনার      শ্রদ্ধাঞ্জলি -
তোমার বৈদিক শ্লোককে উপেক্ষা করে ,
নির্বাক অশ্রুপাত !
তোমার শ্বেতশুভ্র বসনে আমার লেগে
থাকা অদৃশ্য রক্ত ;
তোমার আশীর্বাদক হস্তে আমার
মনবীণার ঝঙ্কার -
উঠুক বেজে বারবার !!

Tuesday, 5 April 2016

শ্যামাঞ্জন

শূন্যতার ভিতরে শূণ্য ,
আবরণে তোমার আভরণ -
স্বপ্নে পরি অঞ্জন ;

শ্যাম মুই তোঁহার স্বপনে
অঞ্জন লাগি মোর হৃদি যতনে ;

আয় তবে শূণ্য দেখি -
আয় তবে শূন্যকে ভালবাসি ,
আয় আমারই আমার -
অসংখ্য শূণ্যের মাঝে ;

মম ভালবাসা সোপিনু  তব চরণে -
বিকশিল তাহা শ্যাম-শ্যামাঞ্জনে !!

Monday, 4 April 2016

এক বেজন্মা স্বপ্নের ইতিবৃত্ত

এক অখ্যাত প্রেমের খ্যাত কাহিনীটির মতো নানা চরিত্র স্বপ্নের দ্বীপে জাল চলেছে বুনে !
এই যেমন স্নান করা দেহে অসংযত আঙ্গুল  লিখে চলেছে অলংকৃত শব্দ বিন্যাস !

প্রেম এখনও বিমূর্ত রাতের স্বপ্নের গহ্বরে
অনাদি কালের মত তোলে মৈথুন ভাস্কর্য ;
থামলাম কিছু পথের পরে , আর তারপর-
তারপরের ইতিবৃত্ত লেখার জন্য আহত হয় পুনরায় ভাললাগার মহুল নেশা!

ভাগ্যিস প্রত্যাক্ষান বড্ড বেশি মধুর -
তবুও আবাগি এপথ জন্ম দেয় বেজন্মা- জারজ লিপি কাহিনী !!

Sunday, 3 April 2016

মন যা চায়

মন যা চায় লিখে চলি -
কবিতা কিভাবে হয় জানি না,সংগাও অজানা !
যখন উল্টো প্রতিবিম্ব দেখি,লিখি -
আসলে রাস্তা হয়েছে অনেক ছোট ,
পদক্ষেপ বড় হয় নি ;

পূর্ণিমার চাঁদ,পচা কলা,হাজার বছরের পথ ছাপ ফেলি নি !
কলমের কল্পনায় পাতা নষ্ট করি ,
চর্চা তো হয় ! কী হবে লিখে ,
তাও লেখা তৈরী হয় মদ গিলে !

মস্তিষ্ক বলে আর না -
কলিম জানায় -" এখনো বাকি কালি "!
হেসো না বন্ধুবর-অবন্ধু তুমিও -
ভাষা আমার শব্দ খোঁজে ,
তবুও,অর্থ ব্যর্থ অনুসন্ধানের পথে
হয়তো আছে ,হলুদ পাতায়
উত্তর ছাপ ফেলে !!

Saturday, 2 April 2016

সহ-বাস

যদি সঙ্গী হবে তো এসো , ছায়ার কথা
রাখতে তোমার মনটি একমাত্র উপযুক্ত !

মাখতে হবে ধুলো , হাসির সোজা রেখা
কাটবে দাগ মহুয়ার সাদা গন্ধে অথবা , রাতের চাদর মুড়ি দিয়ে সহবাস করতে হবে ঘাসের বিবর্ণতার সাথে - তবুও , চলতে থাকা রক্তাক্ত পা শান্ত হলে -
অস্ত হবে আপাত কোন এক অধ্যায় !
" তুমি কী চাও ?" - এটাই প্রধান !!

Friday, 1 April 2016

আয়ুবৃদ্ধির মন্ত্র


ক্যাকটাসে বাঁধানো কপালে
তোর আঙ্গুল হয় ক্ষত !
এবার থামাও শাঁখের মাঙ্গলিক ধ্বনি ;
মরুভূমির উপর চন্দন
প্রহেলিকা মাত্র !
শেষ হয় না গণনা -
আনিস কেন ফোটাতে ফুল ?
এবার সূচনা দিনগোনার ,
তাও আয়ুবৃদ্ধির মন্ত্র !
একঝাঁক বৃষ্টিতে দেখি আকাশ -
ফোঁটায় ফোঁটায় কপাল যে
গেছে ভরে ; আসিস তবে !!

মহাভারতে অর্জুন থেকে বৈদিক যুগে নৃত্যকলা

আধুনিক জীবনে নৃত্য আমাদের সকলের কাছে মনরঞ্জনের জন্য এক বৃহৎ মাধ্যম । কিন্তু এই শিল্পের শিকড় খুব যে আধুনিক নয় তা আমরা জানি । বেদ থেকে...