সতী

বসন্ত শেষের দিন উঠিল কান্নার কলরব ,

দুয়ারে বাজিছে বাদ্য , ফুলের সৌরভ ।

সাজিয়াছে আজি রাজনন্দিনী – 

অলক্ত রঞ্জিত পদ , চন্দন চর্চিত সীমন্তিনী ।

আসি দাস-দাসী সেবিছে তারে বারংবার –

বেনীবদ্ধ কেশভার, অকাল রদনে খসিছে পুস্পভার ।


পূজারি পড়িল বৈদিক মন্ত্র , সেবিল ঈশ্বরে –

আরতির থালি রাখি , নমিল গদ গদ ভক্তিভরে ;

মাগিল –“ হে বিধাতা, দাও যাহা দিবে

লইব মাথা পাতি ,” অশ্রু বহিল নীরবে ।

পড়িল আসিয়া রাজনন্দিনী রাজকূলবধু 

চরণে তাহার , “ রক্ষা কর , রক্ষা কর এ প্রার্থনা শুধু !”

হাসিয়া কহিল পূজারী , “ মাতা এত মঙ্গল ,

দেখহ চারিদিক বসন্তহীন কোকিলের মধুর কোলাহল ;

এ কাহার তরে ? কহ মোরে সতী !

যাইবে তুমি আপন আলয়ে , কেন তব দুর্মতি !”


“ সৈনিক ধরহ এ অভাগিনী বুদ্ধিহীনা নারীরে ;

আইস পরাইয়া দিই মন্ত্রপূত সিন্দুর তব চিকুরে ।”

বাজিল পাঞ্চজন্য , উঠিল জয় জয়কার –

রানী হইবে সতী , এ যে বিধাতার প্রতিকার ।


বহিয়েছে শ্বাসী শীতল নদী মৃদুমন্দে –

গাহিতেছে গায়ক , নাচিছে নর্তকী আপন ছন্দে ।

সাজিছে চন্দন চিতার পালঙ্ক –

আজি নাহি কোন দোষ , মুছিয়াছে সব কলঙ্ক ।

মুক্ত কেশদাম , খসিয়াছে পুষ্প হার

অঞ্চল লুটাইছে ধরনী পড়ে , অশ্রু নাহি আর ।


সজোরে লৌহসম শত হস্ত উঠাইল অগ্নি শয্যায় ,

নগ্ন হাস্যে , জয়ধ্বনি , লইল সতীর পদধূলি মাথায় ।

একি ! একি হয় চারিধার , কম্পন !

সজাগ হইল সবে , লাগিল শিহরণ ।

মাতা সতী জ্বলিছে , হইবে ঈশ্বর –

তবে কেন এ অমঙ্গল , স্তব্ধ সব রব !


সহসা দৈববাণী কহিল – “ যাহারে তুই পূজিস

করিস নিত্য সেবা , কেন মিছে অপবাদ দিস !

ঈশ্বর বন্ধী , ভাবিস মূর্খ সবে ওরে –

সতী যদি হয় ঈশ্বর , মারিয়াছিস তোর ঈশ্বরে ।।

Comments

Popular posts from this blog

মিছিল

ভারতীয় ভাস্কর্যে সমকামিতা

মণি-মুক্তা