চল্লিশ কবিতাবলী

পবিত্র চক্রবর্তী
********************************************
থাক না অভিমানের রেশ আষ্টেপৃষ্ঠে ; 
খেলতে খেলতে পাথরের কোল বেয়ে -
অনুরাগের খুনসুটি অবশেষে জমতে 
থাকে অধর থেকে ওষ্ঠের সঙ্গমে ! এই 
ভাবেই সময় প্রবাহে মিলিত হয় দিন 
থেকে মাসের স্বরলিপি হৃদয় পৃষ্ঠায় !
খেলা থেমে ছিল মাঝ পথে , হয়তো 
সঞ্চিত হয় শিমুল রাগ জমাট সংসার 
গ্লেসিয়ারে ! ঘড়ির কাঁটায় মাথা কুটে 
যায় , আমার-তোমার কৃষ্ণ কেশের 
জৌলুস ! আবারও মহামিলনের 
পূর্ব লগ্নে হোক না শুরু রাগ-অভিযোগ 
খেলা ! অদূরে অপেক্ষারত কালের 
যাত্রা ; আজ, উষ্ণ পেয়ালায় নেব 
তোমার ফেলে আসা উষ্ণতা !!

পবিত্র চক্রবর্তী
***********************************************
এতো গভীর ঘুম বহুকাল পর ছুঁয়ে
গেলো এই দেহ ! পল্লীর উষ্ণ সিদ্ধ
চালের উদাসী গন্ধ বাতাসে তখন
ভাসিয়েছে গা ! ক্লান্ত এ অবয়ব -
আড়ষ্টতা কাটিয়ে চোখে প্রতিবিম্ব
করে , বর্ষায় সদ্য যৌবনবতী
পুষ্করিণীর গায়ে -- পলকা বায়ুতে
রোমাঞ্চ জাগে প্রতি লোমে ! আমায়
নিয়ে চলে , আগাম কোন এক কল্প পথে !
এ বাঁক - সে বাঁক পেরিয়ে কুয়াশা ঘেরা
নদী বক্ষ , যেন করেছিল আমারই স্তব্ধ
অপেক্ষা ! ধীরে ধীরে অবগাহনের পর ,
বিশুদ্ধ হয় এ খয়েরী হৃদয় ! তখনও
জাগেনি ভোরের সেই কাব্যের ফিঙে -
দোয়েল পরিবার ! কেবল , একাকী
ফকির-সাধুর মত চলেছি সব মেঠো
পথ আপাত বন্ধন ছিঁড়ে , নিখিল বন্ধনে !
অহিংস হয়েছে মন , যেন ঠিক প্রাচীন
বটবৃক্ষ দিয়েছে মন্ত্র এ দেহে-চিত্তে --
আমি চলেছি আর চলেছি উত্স মুখে !!
৩ দিন ও দিবস
পবিত্র চক্রবর্তী
আমার কবিতার কথাগুলো ক্রমান্বয়ে 
হারিয়ে যাচ্ছে ভিড়ে ঠাসা লোকাল ট্রেনের 
কামরায় , কখনো বা , তাদের আনাগোনা 
প্রান্তিক কানা লোকালয় থেকে নগরের 
বুকে উপচে পরা ডাস্টবিনের গহ্বরে !
বর্ণের সঙ্গে বর্ণের মিলনে শব্দ সন্তানদের 
জড়ালো ব্যাকরনের চেয়েও জটিল 
"
ওদের " পুঁতিগন্ধময় জীবন সংগ্রাম !
কলমের নিরামিষ কান্নায় লাভ কতটা 
তা জানে না - অন্ন-বস্ত্র-ছাদহীন " তাদের "
আমার-তোমার মতো পাকস্থলী !
"
শিক্ষা ", না হয় ভরা পেটে হোক !
প্রতি বছরের মতো ক্যালেন্ডারের তকমা 
দেওয়া দিন ওদের ব্যাঙ্গ করে ! 
সবে মাত্র অঙ্কুরিত শিশুর মুখে দুধের বদলে নুন -
কী পরিহাস ! নানক , হে পূণ্য আত্মা ,
আজ আবার পুনঃ নাও জন্ম ! পূর্ণিমার 
আলোকে তোমার আশীষ পড়ুক ঝরে !!

পবিত্র চক্রবর্তী
************************************************
মজাটা হল এই আমাদের নিয়ে
ধোঁয়াগুলো যেমন একে অপরের 
সাথে কুণ্ডলী পাকানো সাপের মতো 
খেলা করে , আর শেষে নিজেদের 
অস্তিত্বের সাক্ষ্য রাখতে টুপটাপ 
ছন্দে স্পর্শ করে আকাশের হৃদয়কে
ঠিক তেমনটা না হলেও , সম্পর্ক-
অনুভূতি নামক অদ্ভুত কায়াহীন 
মায়ার সন্তানরা ক্রমে হৃদয়ের গন্ডী 
পেরিয়ে স্থান পায় অভিধানের পৃষ্ঠায়
মজাটা হল ধোঁয়ার পরিবর্তনে মরু ,
পেয়েছিলো যে জলের আস্বাদন ,
মায়ার উত্তরসূরিদের উন্নাসিকতা 
তোলে আজ কেবল মরু ঝড়
মজাটা হল , সব জ্ঞানবোধী হয়েও ,
চোখেতে নামে ঘুমের ঘোমটা -
সাজতে ভাল লাগে বিড়াল তপস্বী

পবিত্র চক্রবর্তী
******************************************
পুরাণ-পুঁথি আজ তোমায় না হয় রাখলাম
পাশে সরিয়ে ! শিশির , দেখছি আজ তুমি
বেশ আসর জমিয়ে বসেছো তৃণের বুকে ;
গন্ধটা সুবাসিত করছে চন্দন-ধূপ ! কিন্তু ,
কেন এতো আয়োজন ? সুদূরে উঠছে উলু-
শঙ্খ ধ্বনি - ! হে কলম তুমি কেন গুমরে
মরছো ? ক্যালেন্ডার-পাঁজির ক্ষুদ্র ছবি
দিচ্ছে খবর নাকি আজ " ভাতৃ-দ্বিতীয়া "!
আমার কপালেও উঠবে দীর্ঘায়ুর প্রলেপ !
এই মেয়েটা তুই বাঁচতে চাইবি না ? তোর
ফোঁটা কী যম দেবে চিতার অঙ্গার ? আয়
তবে আমার বানানো পুরাণ খানিতে পৃষ্ঠা
খুলে লিখি " বোন-ফোঁটা " !
পুরুষ কী মজা বলতো ! যুগ যুগ ধরে ,
আয়ু-বংশ-ধর্ষন এটাই কী করেছিলো
কামনা অ্যাসিড-আগুন পোড়া নারীরা ?
শিশির-চন্দন-ধূপ তোমার লিঙ্গ কী আমি
জানি না ! তবে , আজ না হয়ে টুপটাপ
ছন্দে তারাদের বুক থেকে তুমি ঝরে পড়ো !
যাক , কেউ কী বলবে আমার সাথে -
"
বোনের কপালে দিলাম ফোঁটা -
যম আসলে তুই , ভাঙবো মাথা ।।

পবিত্র চক্রবর্তী
************************************************
আর কত আঁচড় কাটলে সম্পূর্ণ 
হবো - প্রশ্নটার লাল ফিতে ফাঁস 
নাগপাশের মতো প্রান্ত থেকে প্রান্তে 
কাটে দাগ , অনুর্বর জমির শুষ্কতায় !
উড়তে উড়তে যে ঘুড়ি কাটে সম্পর্ক 
সুতোর , তার অব্যক্ত ব্যাথার মতো 
আজ গল্প লেখে কায়াহীন মন ! হয়তো ,
এই ভাবেই কলমের থামাবে অখ্যাত 
কোন এক বেনামী ইতিকথা ! ঘুমহীন 
চোখে লেগে থাকবে লাশকাটা ঘরের 
মত পৃথিবীর শীতল সুখ সজ্জার ঘুম !
দেখেছি আমি মৃতরা সব থেকে আদি 
সত্যের কথা বলে , যেমন লাঙ্গলের 
সভ্যতায় জন্ম নেয় সবুজ শস্য বংশ !
রক্তমাখা বুকে জন্ম নিক আগামীর জাতি !!

 পবিত্র চক্রবর্তী
*********************************************
স্বপ্নগুলোকে মাটি দেওয়ার পালা ,
বাস্তব ক্রমে হচ্ছে শয্যা সঙ্গী -
তাও ,তোমার চুপ করে থাকা কবরের সমান ; 
হয়তো ,থরে থরে জমা প্রেমের মাঝে
অভিমানের কলোনিতে পরছে ধুলো -
হয়তো কোন একদিন শায়িত হবে শুধুই 
তোমার-আমার কায়াহীন " আমি-তুমি "!
শূন্য থেকে শুরু করে আবার মহাশূন্যে -
তাদের মাঝে দেখেছি নিষ্পলক চাহনি ; 
অর্থ আর সৃষ্টির দাঁড়িপাল্লায় কোনটা যে 
বেশী দামী - বোঝে ক্রমে মৃত মন !
থাকলো শুধু নতুনের কাছে টুকরো 
চাঁদের মতো মতো না বলা কথা !!

পবিত্র চক্রবর্তী
*********************************************
সেদিন ভোরের পাখিরা হয়তো ক্লান্তির 
খোলসে নরম ঘুম দিচ্ছিল ;সেদিন গাছেরা 
হাওয়ার সাথে অজানা কোন অভিমানকে সঙ্গ পাতিয়েছিল !
সেই শিশির ভেজা বিদায়ী গতকালের নিয়ন ঘুমে আচ্ছন্ন 
রাজপথে নিজেকে দেখতে শুরু করলাম 
পুনরায় ! সূর্য তখনও পশ্চিমী ক্ষয়িষ্ণু 
চাঁদের সাথে বেশ মিত্রতার মাপকাঠি রেখেছে বজায় !
এমন এক সিন্দুকে তোলা
আপাত ভোরের নরম জজিমে পেলাম 
কারা যেন সান্থারায় ব্যাস্ত ! সমাজ শেষে 
তুমিও ? বেশ , হয়তো আবশ্যিক !
আমার-তোমাদের কর্কট রোগে মুহ্যমান 
বর্ণ-শ্রেণীর বসুন্ধরার নিপুণ গোষ্ঠী বদ্ধ 
বৈধ প্রতিনিধিকুল একে একে মৃত্যুর কোমল
আলিঙ্গনে হাহাকার রাগিণী তুলেছে !
যাওয়ার আগে ,সমাজ তোমার 
রক্ত ক্ষয়ী ডাস্টবিন বদ্ধ জীবন হয়তো 
এতদিনে চায় আরেক নব জন্ম ! সান্থারা ,
আজ বলে যাই তুমি ঠিক -ঠিক আর ঠিক ।।
পবিত্র চক্রবর্তী
*****************************************
অতঃপর যেখানে কথা শেষ করেছিলে ,
ঠিক তারপর থেকেই , শেষের নুপুর ধ্বনি 
একটু একটু করে পদ সঞ্চার শুরু করে !
বুঝি , হলো শেষের শেষ ! ঠিক যেন -
কালপুরুষের উদ্ধত বাণে আহত কোন এক
প্রেমের অসম্পূর্ণ আঁকা বাঁকা গল্প ! পোষ্য 
লাইকার মুখে শিকার লব্ধ অখ্যাত চরিত্রের
শেষ গোঙানি - ছটফট করা আস্ফালন
" ভাঙা "-" শেষ "- শব্দগুলো বেশ মজার !
ঠুনকো- টিকে থাকা আধুনিক সম্পর্কের 
উপসংহারে কী সহজেই নাকের পাটা বিস্তৃত ,
এরা সকল , না বিখ্যাত দীর্ঘশ্বাস 
ফেলা চরিত্রের ঘাড়ে শীতল CO2 চুম্বন দেয় !
অবশেষে , স্মৃতির গঙ্গা জলে অস্তমিত হয় - সর্প
রজ্জু ভ্রম সম্পর্কের ক্ষয়ে আসা সূর্য ! লক্ষ-কোটি
বছরের ন্যায় আধুনিক অ্যানরয়েড ভালোবাসার
মিষ্ট স্যাকারিন সম্পর্ক সুগারে ভোগে !
তবুও , কপাল পোড়া মন খুঁজে ফেরে -
অচেনা - স্যাঁতস্যাঁতে পিচ্ছিল হৃদয় গলিত
প্রেমের ব্রাহ্ম মুহূর্ত ! চলবে , পুনরায় -
আগাম অনাদি কালের পর কাল ধরে !!
***************************************
*
 পবিত্র চক্রবর্তী
********************************************
বন্ধুবর ,
মনে ছিল না , শুনলাম আজ রাখী !
বহুকাল আগে এর অর্থ-বোধ বেশ নাড়া দিতো ;
বর্তমানে মনের চোরাগলিতে সে চেতনাগুলো মৃত
মাছেদের মত এক সর্বগ্রাসী শেষ খাবি খাচ্ছে !
আজ সকালে দেখলাম বৃষ্টিরা জমিয়ে সেজেছে !
কান পেতে শুনতেই বুঝলাম -
ওরা বন্ধন শুরু করেছে গাছ-মাঠ-পাখী -
ফুটপাথেদের সাথে ! বেশ মজা লাগলো !
ব্ন্ধু , রাখীর ইতিহাস-বিশ্লেষণ , মিষ্টির দোকানে মিঠে
নানা মাপের কাগজ আজ কত কথাই না বলবে ! টিভি-
ফেসবুকে উঠবে তত্ত্বের আরেক নিম্নচাপ !
আয় অরণ্য-আয় গাছ সদলবলে -
আমি না হয় তোদের ডালেই নীরবে 
বাঁধি ডোর , পরাই তিলক ! রক্ষা করিস 
অজেয়-অমর রাখী বন্ধন ! 
ঠিক , সময় বই ছুট এক দামাল বাচ্চা 
তোদের সাথে আমার মিলন দেখে উঠলো হেঁসে !
হয়তো হাঁসি নিষ্পাপ-
অর্থবহ ! আগামী এর উত্তর দেবে !!
ভালো থাকিস তোরা !
তোর পাগলা বন্ধু !

পবিত্র চক্রবর্তী
******************************************
দারুণ কুলিশ পতত বারি সঙ্গ ,
শাওন করহ মম হৃদি ভঙ্গ !
যামিনী আধ অধিক বহি যাও ,
নিদ নাহি দুহুঁ আঁখি অবিরত !
বংশী ধ্বনি পশিল বান অধিক ,
কেমনে রুধি মোর চপল গতিক !
কুঞ্জ-বন ছায়ে পুষ্প বিখরিল ,
শিখি নাচত-কৃষ্ণ-নীল পঙ্খ মেলিল !
তবু হাম নাহি পারি ছাড়ত গেহ ,
কুলবধূ লাজে যেমত নূতন মেহ !
অম্বরে দেখত কানহ-নীল ছায়ে ,
উপেখিত যাওত , শ্যামের দহুঁ বাহে !
হৃদ মাঝে মঝু জাগসি অনুখন ,
দেহুঁ চুম্বন বসি ঝুলত ঝুলন !
যেমত মরণ পরশে তনু ,
সখী অভিমান রাখি কানন সাজানু !
শ্যাম শ্যাম দেখি শ্যামনীলকণ্ঠী ,
দুলিব দোহেঁ মোরা প্রেম অবগুণ্ঠণী !
পঙ্কজ পবিত্র হৃদি কহে তোহে ,
হরি, দুলিছে তোহাঁ কমল গেহে ; 
খেলিবি আজি কি ঝুলন দোলে ,
অনুখন শ্যাম হ্লাদিণী প্রেম ভরি তোলে !!
*******************************************
*
পবিত্র চক্রবর্তী
**************************************
কিছু সৃষ্টি না হয় থেকে যাক অসম্পূর্ণ ; 
তোমার চোখে দেখব বলে , ঠিক যেমন -
ভোরের আকাশকে শত সহস্র বছরের পূব 
রবি ভালোবাসে প্রথম ঘুম ভাঙানোর পেলব আলোর অলক্ত চুম্বন রেখায় !
তোমার ঘুঙুরের আলাপ সারে নির্ঝরিণীর মত তালে-ছন্দে !
আর আমার হৃদ-কমলে স্পন্দিত হয় কত যে বিশ্রামরত স্বপ্নের -
ঝঙ্কার , অবিরত-অবিরল-অবিরাম !
বাইরে যে বারিধারা ধোঁয়াটে সবুজ পাতায় 
মল্লার রাগে , করে আত্মজ-আলিঙ্গন !
আজ , ইচেছ করে সম্ভবকে সরিয়ে রেখে ,
তোমার পায়ে হাজার পাকে বেজে উঠি -
ক্ষণে ক্ষণে , অনির্বার অনামী লয়ে !
যা হল না পূর্ণ , থাক সেসব বিশ্রামের 
মর্ম ভাঁটায় ! শুধু তুমি জোয়ার হয়ে ভাসিয়ে
পুণ্য স্নানে স্নাত করো আমার নিশ্চুপ ,
আবেগের মোহময় জীর্ণতা ! অপেক্ষার 
দৈর্ঘ্য না হয় পুনরায় বৃদ্ধি করলাম মধুর -
অনাস্বাদিত আলিঙ্গনের আস্বাদনে ।।
পবিত্র চক্রবর্তী
******************************
শ্রেণীসংগ্রামে কয়েকশো ডিম্বাণু - শুক্রাণুর মৃত্যুর পর ,
অসীম গর্বে ,বিজয় উত্সব করতে করতে দুটি হাত
এক হয়ে ক্রমে আরও ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করে !বাঁধে সুখী গৃহকোণ;
সৃষ্টি হয় আপাত ঘুমন্ত স্বপ্ন- মাতৃ জঠরের নরম শয্যায় !
নাটোরের বনলতার সাথে হাঁটতে হাঁটতে একে একে
তারা এগিয়ে চলেছে - আরও এক উদ্যেশ্যে !
সকলে যে সকলের মত এক হবে তার কোন
অর্থ না থাকলেও , প্রাগৈতিহাসের দেহজ সংসারেরা
একই ভাবে রচনা করে সৃষ্টির অনিন্দ গভীর উল্লাস !
উষ্ণ জলে নড়বড়ে ওঠানামা নরম মাংসপিন্ডে ,
ক্রমান্বয়ে চাপে ধর্ম-অধর্মের অভেদ্য বস্ত্র বর্মের মত !
শুধু ভাবি , শুক্র আর কুসুমের -
ধর্মটা ঠিক কি ছিল ?

পবিত্র চক্রবর্তী
********************************************
তোকে ভালোবাসার অর্থগুলি ,
এক-দুই-তিন করে সাজালেও -
অর্থ বোঝেনা মন ! তবুও ,
অগোছালো আনমনা কায়াহীন অফুরন্ত 
ভাষাগুলো নিয়ত বুনট তোলে , হৃদয়ের 
লাল কণিকার দুরন্ত অনন্ত স্রোতে !
দুটি মন কথা তোলে , বোনে শব্দমালা -
যেমন করে গুন্ঠনবতী চাঁদ রজনীর বুকে ,
আড় ভাঙে ঘোমটার ! ভাষায় ভাষায় স্রোত ; 
ভাসাই ভেলা প্রতিক্ষণে !
চল আজ , পা দুটি ডোবাই ফেনিল স্বপ্নে ; 
আর তারপর , ইতিহাসের ইতিহাস গড়ি -
তোর-আমার দু-ফোঁটা স্পন্দনে ! আমার-
তোর সবাক চাহনি , বোঝে অভিমান ; 
আয় , চার-তিন-দুই-এক করে সৃষ্টি করি ,
উষ্ণ পিরামিডের বক্ষ ; বুকে কান পেতে 
শুনি , আমাদের জীবনালেক্ষ্য কোন এক -
জোনাকি রজনীর নিশীথে ।।



 ১৫ শেষ চুম্বন
কবি – পবিত্র চক্রবর্তী
মদিরায় শেষ চুম্বন বার বার দিয়েও
তোমার জন্য বানাতে পারি নি কবিতা ;
আলোকবর্ষ থেকেও বহু দূরে গ্রহরা করেছিল
যে সঙ্গম , তার ঈর্ষায় আজ ক্লান্ত
অবয়ব করে চলেছে দিনলিপি ।

ছিন্ন বক্ষের নির্যাসে ভিজে উঠেছে
প্রতিরাতের কাহিনী ; যার স্বপ্নে
বিভোর প্রাণ পাড়ি জমায় সুদূরের
ছায়ার পথে । তবুও এ মনের
পুঞ্জীভূত আবেদন ছুঁতে চায়
তোমার ফেলে আসা বাষ্পীয় উষ্ণায়ন ! দেবে কী
সেই অলিখিত স্পর্শের অধিকার !

নামহীন আঙুলের জৈবিক ক্রীড়া
এঁকে চলেছে জীবনের চালচিত্র ;
থাকবে কী তুমি শুধু পটচিত্রের
অন্তিম তুলির টানে !

সময়ের নির্ঘণ্ট আজও চলেছে নিয়ম মেনে
ইতিহাসের কালের চক্রে ; তবুও থামেনি
এ মহাপ্রেম , নাট্যের অবগুণ্ঠনহীন
মঞ্চে ! আবার যে চেয়ে থাকি –
তারা ঝরা আকাশে - মদিরার পানে ,
যদি পাই খুঁজে তোমার
ছুঁড়ে ফেলা প্রেমের শেষ দীর্ঘশ্বাস ।।
 ১৬দৈনন্দিন
কবি – পবিত্র চক্রবর্তী

অবশেষে ঘুমিয়ে থাকার পর যে
আলো মাঠ-ঘাস-ফড়িং এর ডানায়
প্রতিফলিত হল, সভ্য মানবের ক্ষুধা
উঠলো বেড়ে ।
যে ট্রেন ছাড়বে, দৌড়াবে রেলের
শরীরের আকর্ষণে তাও ঠাসাঠাসি ,
পারিবারিক সম্পর্কের মধুময়ের জন্য ।
এ সবের মধ্যে কাল রাতের যে হরিণ
শিকার হয়েছিল , তার নিঃস্পন্দন
ঘোলাটে চোখের দিকে তাকিয়ে
বাঘের চোখ বুজে থাবায় থাবায় লেহন ;
পেপারে নামহীন দেহের সন্ধান
এক টিপ খৈনী মুখে গুঁজে ক্ষণিক
চর্চা- ষ্টেশনে নামার তাড়াহুড়ায়
দেহ পরে থাকে দোমড়ানো অক্ষরে ;
শাড়ির আঁচল কখন যে ঠোঙা
হয়ে যায় তার ইতিহাস রাখে নি
মনে নাগরিক সভ্যজীবন ।
সুদূর আফ্রিকায় হরিণের সংখ্যার
ভারসাম্যের জন্য নখে দেয় শাণ-
শুধু অপেক্ষা ঘুমের ,
কাল এসো আবার নতুন দিন
শোনো , তাজা খবর পাবে ।।

১৭#ভালোবাসার_দিন ( ১২-১২-১৬ © পবিত্র চক্রবর্তী )
*********************************************
কুয়াশা ভাঙা সোনালী বর্শা উঠেছ দিগন্তরে 
নে তোকে দিলাম ভালোবাসা দুটি হাত ভরে ।
শুভ্র পারাবতের পালক আলো ছড়িয়ে দিলাম 
নে বিনি সুতোর মালা গেঁথে , তোকে পরালাম ।
এক থেকে আরেক দিকে বইছে শুদ্ধ হাওয়া 
ঘুম জাগা পাখির মনে গান কণ্ঠে গীত গাওয়া ।
স্পর্শকাতর দামাল হাওয়ায় কাঁপে বন্য-ভূমি 
এই নে ভীরু হাতের ছোঁয়া অপার এক দুষ্টুমি ।
সূর্য গলে ঢল নেমেছে নদীর জলে 
নে বেলি জুঁই তোর নরম করতলে --
নির্ঝরিণী গাঙের জলে ভাসিয়ে দিলাম 
নে তোকে ভালোবাসার বিপুল সকাল দিলাম ॥
১৮#চেতনার_উদয় ( ১৩-১২-১৬ © পবিত্র চক্রবর্তী )
*********************************************
শেষে আচ্ছন্ন এ হৃদয়ে মাথা পেতে নিলাম 
তোমার সকল অবিচার ---
জানি , এখন দুরন্ত শৈশব কৌতুহল 
অদৃশ্য তন্ত্রীকে স্পর্শেই লয়ে সুরে বেজে ওঠে ,
ধরিত্রীর সমধর্মী সকল জল-তরঙ্গ ।
নিঃশঙ্ক হয়ে বলে উঠতে পারি -- ' ভালোবাসি '
এখন কোন চপল বালিকার ঝর্ণা প্রবণ 
স্নিগ্ধ খেজুর-রস স্পর্শে প্রজাপতি রঙ হারালে 
নালিশ জানাবে আমায় , শাসন কি জানি না ।
এখন নীরবে তোমার মুখপানে --
কপাটে খিল দিতেই পারি , কারণ ,
জানি আমার অসুখ উপশমে ,
জরুরী তোমার জীর্ণ শরীরে হৃদয় রাখা ।
হয়তো সরবে বলতেই পারি " যাও ফিরে ",
এতদিনে শিখেছি , সব নদী ,
পরিণামে উত্স-অভিমুখী ॥
১৯#তখন ( ১১-১২-১৬ © পবিত্র চক্রবর্তী )
**************************************************
পলাশ যখন নদীর মতন আকাশে তোলে ঢেউ -
ঢেউয়ের মাথায় কৃষ্ণচূড়া ছড়ায় লাল ফেনা ।
শিমুল যখন পুষ্ট তার হৃদয় আঁচল খুলে ,
আছড়ে পড়ে সে নদীতে , নিতান্তই আনমনা -
আমি তখন হঠাত্ পালাই বন্যপাহাড়ী বনে 
সামিল হতে নতুন করে হারানো যৌবনে ॥


২০#একটি_কবিতা ( ১০-১২-১৬ © পবিত্র চক্রবর্তী )
*********************************************
একটি প্রজাপতিই পারে 
ছড়িয়ে দিতে পরাগ-রেণু 
এ ফুল থেকে আরেক ফুলে বাতাস নয় ।
একটি প্রেমিকা পাগলপারা 
ফোটাতে পারে লক্ষ তারা 
একটি ভীরু বুকের ভিতর আকাশ নয় ।
একটি মৌমাছিই পারে 
ফুটিয়ে দিতে একটি কলি 
গুন গুন গুন গানের সুরে সময় নয় ।
একটি শিশির-কণাই পারে 
জন্ম দিতে সূর্যমুখী 
শিষের ভিতর শস্যভ্রূণ সূর্য নয় ॥

২১#হল_না ( ০৯-১২-১৬ © পবিত্র চক্রবর্তী )
**************************************************
অরণ্যে মর্মর ছিল 
আর ছিল অনুভবব্য হাওয়া 
হৃদয়ে বাসনা ছিল 
তোমাকে গভীরে কাছে পাওয়া ।
নিভৃত পিয়াল শাখে 
মগ্ন ছিল দুটি বন টিয়া 
সমৃদ্ধ চুম্বনে 
এই দৃশ্য আচম্বিতে 
ফিরে যাই প্রথম জীবনে ।
বনতলে ফুল ছিল 
কিছু শিউলি কিছু কুচিও 
তুমিই তো বলেছিলে 
আরণ্যকে একা থাকতে দিও ।
অরণ্য নির্জন ছিল 
সোঁদা গন্ধে ভারী ছিল হাওয়া 
তোমাকে পাইনি কাছে --
হল না অরণ্য খুঁজে পাওয়া ॥
২২#জন্ম ( ১৯-১১-১৬ © পবিত্র চক্রবর্তী )
**************************************
পৃথিবীর অপর কোন এক প্রান্তে 
সুদীর্ঘ শ্বাস ফেলেছিল ক্ষুব্ধ কোন 
এক হৃদয় , তার প্রাচীন উষ্ণ কান্না -
বুনে চলে স্বপ্নের জাল !
আজ সকালের সূর্যটা কালকের 
মতো দেয় , নবজাতকের আগাম 
সোচ্চার বার্তা !
কাল-প্রবাহে ধুয়ে দেয় কিছু চেনা 
কষ্ট ! তবুও বাসি ভালো , আমার 
নিঃশ্বাসের গোপন প্রেম !!

২৩#সম্পর্কের_পরিমাপ ( ১৬-১১-১৬ © পবিত্র চক্রবর্তী )
********************************************
শুকতারা আর চাঁদের সাম্রাজ্য ছেড়ে -
তোমার উপমার সীমানা না হয় হলে 
হাজার বছর আগে , নামহীন কোন 
মৃত নক্ষত্রের উজ্জ্বল সজীবতার মতো !
শীত-আঁধার আকাশে ছাদের কার্নিশ 
বেয়ে চুঁইয়ে পরে , আলোকবর্ষ দূরে -
অনন্ত স্মৃতির কোষ-রেণু এ মনের 
তপ্ত কায়াহীন অবয়বে ! তারপর ,
চোখের বেইমান অশ্রু সন্ধি জমায় 
ধীরে ধীরে ; ঠিক যেমন ভাবে ,সে রাতে -
উন্মোচন হয়েছিল প্রথমবার ,আড় 
করা ঘোমটা প্রেয়স স্পর্শে ! মিলন 
হয়েছিল , খসে পড়া গোলাপ সৌরভ 
বন্ধী বাতাসের সাথে !
প্রেমের জীবন্ত প্রমাণ-বাস্তবতা প্রমাণ 
করে না শুধুই চুম্বনের উষ্ণতা ! একবার 
হাতের উপর হাত দিয়ে ঘ্রাণ নাও -
নক্ষত্রদের কলোনির পাশ দিয়ে ছুটে 
যায় যে ধূমকেতু , পাবে এক হারানোর 
আগেও নীরব অনুভূতির সলজ্জ রেশ !!

২৪#ডাকহরকরা ( ১৫-১১-১৬ © পবিত্র চক্রবর্তী )
********************************************
নাগরিক জীবন সভ্যতার পাশ কাটিয়ে 
যদি প্রাগৈতিহাসিক প্রস্তর , কিংবা ,
তারও আগের কোন এক যুগে কোমর নুব্জ
প্রাণী হতে পারতাম পুনরায় ; তাহলে 
কতটা কী হত বলা মুশকিল ! তবে এটা 
ঠিক , পুনশ্চ সম্পর্কের শিথিলতা 
মুঠোর মধ্যে না থেকে , দূর থেকে আঘ্রাণ 
নিত সুখ-মিলনের আবেগময় প্রত্যাশায় !
পৃথিবী ক্রমে ছোট হতে হতে , হয়তো -
আরো হবে সহজলভ্য ! আর , সেই 
প্রাপ্তির আঙিনায় দুষ্প্রাপ্য , পথ হারা 
নদীর মতো মন তন্ত্রী হারাচ্ছে হৃদয়-সুর !
হাত বাড়ালেই মনের নাগাল কী কোন 
নিষ্ঠুর পরিহাস ? বিতর্ক নাহয় রাখলাম 
পাশে সরিয়ে ! তবে , হৃদয়ের সাথে 
প্রাণের অনুভূতি মুঠো বন্ধী হয় , তবে ,
থাক পরে আবেগের রাত জাগা উন্মেষ !
মাইলের পর মাইল যায় না শোনা -
ডাকহরকরার পদ-ধ্বনি ! খামবন্ধী 
চিঠি হারিয়েছে ক্রমশ অপেক্ষার সুবাস !!
২৫#ছুঁয়ে_যাও ( ৩০-১১-১৬ © পবিত্র চক্রবর্তী )
*********************************************
যুদ্ধ না করেই সুখী হবে 
এমন দুরাশা পোষণ করে না 
কোন ইতর প্রাণীও ;
অতএব যুদ্ধে যাও , লড়ে দেখ --
ফলাফল অবশ্য জানিও ।
পাহাড়ে না উঠে তুমি চিনে নেবে 
পাহাড়ের ফুল ?
একথা বলে না কোন পাহাড়ী মানুষও ;
এক্ষণই পাহাড়ে উঠে দেখ --
আয়াসে আকাশে ওঠে নিছক ফানুসও ।
নিজেকে না উন্মুক্ত করে তুমি যেতে চাও 
মানুষের কাছে ?
মানুষ দূরের কথা , নিজেকেই সঠিক চেন না ;
যাও তার কাছে যাও , না গিয়েই চিনি 
একথা কক্ষণো আর মুখেও এনো না ॥
২৬#কুর্নিশ ( ০৮-১২-১৬ © পবিত্র চক্রবর্তী )
*********************************************
বেনামী কিছু নাম ঘুমিয়ে আছে আজ 
কবরের অতলে । ইতিহাসের হলদে পাতারা 
ভুলেছে সেই জীবন আলেখ্য । আমার 
কলম আজ শ্রদ্ধায় নত । রাতের অলৌকিক 
নিশীথে যে ভাবে ঝরে পরে শিউলির আতর 
মাটির বুকে ---- স্বাধীন বাংলার নাম হারা 
বীরকুল দিলাম তোমাদের এক মুঠো সেই সৌরভ ।
বিষণ্ণ অতীতের বুকে হিমবাহী রাত্রি নেমেছিল 
সেদিন ; একেকটি দুঃখের মত শিশির-চন্দনে
ভেজা , ব্যাথাগন্ধী শিউলির হলুদ - 
উঠেছিল কেঁদে পরাধীনতার মাতৃ-অঞ্চল ।
তোমায় অবসন্ন দেখে পদ্মার সাথে গঙ্গাও 
ভুলেছিল সহজ বহতা । ক্লান্ত তোমার চোখের 
অশ্রুর ধারাবাহিকতা , নামহীন সেই শহীদদের 
রক্তে পেয়েছিল স্বধীনতার মহোত্সব ।
পৃষ্ঠা-কাল ভুলে গেলেও --
আজ দিলাম তুচ্ছ শ্রদ্ধার্ঘ ,
সেলাম তোমাদের সেলাম ॥
২৭#কে_একা (২-১২-১৬ © পবিত্র চক্রবর্তী )
**************************************
অচেনা রাস্তায় হাঁটাই ভালো ,
আঘাত পেতে পারো বারংবার --
ক্ষতি কি ? না হয় , মনের দিস্তা খাতায় 
পুনরায় লিপিবদ্ধ হল । তোমার 
ছেঁড়া-রুদ্ধ কান্না কপাট খুলে 
মনের পরিভাষা কেবল মাত্র তোমারই 
রইলো --- এতেও কষ্ট পেয়ো না বন্ধু ।
অভিধান আর ডাক্তারী কেতাব ,
ভারসাম্যহীনতার খেতাব দিলেও ,
তুমি শুধু প্রশ্ন ছুঁড়ে দিও , তোমার তুমিকে ---
সত্যিই কী এসব অপ্রয়োজনীয় ?
আকাশের খণ্ড মেঘ খুঁজে ফেরে 
শুধুই নিজের অপর অংশকে । মেঘের 
পর মেঘ জমতে জমতে , অবশেষে 
মাটি চেয়ে নেয় অমৃতসুধা ।
দীনতার পরিমাপে তোমার নাম 
উপরের শ্রেণীতে থাকলেও , খণ্ডতার 
মাঝে আমার আমি'তে রাজপাট করো ;
বাকীরা না হয় খাঁটি তেলের সন্ধান করুক ॥

২৮#সমাধি (৭-১২-১৬ © পবিত্র চক্রবর্তী )
*********************************************
ঘুমাতে চাই পুনরায় , নাড়ির 
বাঁধন ছেঁড়া সেই মাতৃজঠরে ।
গেছে যে ধূলি মাখা পথ , খেয়েছ --
ঝুঁটি বাঁধা বুলবুলি , জীবনর কত গুণে 
গুণে রাখা নানা বন্ধন শস্য । হচ্ছে এ 
শরীর , নিভন্ত কামাগ্নির স্তূপীকৃত ছাই ।
ক্রমে , গোধূলির সাথে সন্ধ্যার মিলনে ,
ঘোমটার আড়ে যে কৃষ্ণ নিশীথ নামে ,
সেইখানে রেখো , টুকরো কিছু জমি ।
বসুন্ধরা , তোমার জঠরে দাও ,
অন্তিম স্থান । শান্তির ঘুমে দেখবো --
রূপকথার নকশী কাটা স্বপ্ন ॥

২৯#অহিংস_জবাব ( ৫-১২-১৬ © পবিত্র চক্রবর্তী )
******************************************************
তোমাকে কাঁদালাম ইচ্ছা করেই ,
জানাটা দরকার চোখের জলের 
মূল্য । বুঝলে ভাল , কেবলমাত্র 
চামড়া আর পেশীর সংগম নয় ।
বাতাসে উড়ন্ত লবণাক্ত কিছু জলীয় বাষ্প ,
করে না পরিমাপ , অনুতাপের পরিভাষা ।
আজ , আমিও খাই নি জীবনের রক্ষা-কবচ ;
মেপে মেপে মিলিয়ে দেখছি হিসাব , কায়া 
আর ছায়ার সহন ক্ষমতা কার বেশী !
শেষে , পারলে এসো আবার ;
এ ক্ষত বুকে ফলাও ফসল ,
তোমার নোনতা অশ্রুর বদলে -
লাগুক থেকে উর্বর সত্য ॥
৩০#কাল্পনিক ( ৭-৯-১৬ © পবিত্র চক্রবর্তী )
***********************************************
শেষে বৃষ্টি ভেজা বনানীর চোখে যে ঘুম 
ক্রমে এসেছিল , তার নিষিক্ত রেচন স্পর্শ 
লাগে এই পোড়া চোখে ; স্বপ্নময় হয় কিছু 
আউন্স খাপবন্ধী ধূসর কোষের কলোনী !
দেখতে দেখতে আমার পৃথিবী সকলের 
থেকে হয় ভিন্ন ! পায়ের তলার সর্ষে-কণা 
শিরায় শুরু হয় উন্মাদনা , তাদের বঞ্চিত 
করেছে ঘোমটা ঢাকা মন ! চলতে থাকে 
 
মায়াবী চিত্ত - প্রান্তের ওপারের অজানা 
কোন এক নিঝুম মেহগনি বনান্তরে !
অবশেষে , স্নাত বনানীর স্পন্দনের 
ছোঁয়ায় ঘুমে গভীর হয় বৃদ্ধ পেশীর
বলয়দ্বয় ! এ এক অপরূপ প্রশান্তি -
শূন্যতায় শূন্য হয় অপূর্ণ এক নীড় ভাঙা 
অবয়ব ! ভাসতে ভাসতে দেখি , দীর্ঘ 
ঘুমে ক্লান্ত শায়িত তনু চুম্বন খাচ্ছে -
শীতল-নীলাভ অথবা খয়েরী রঙা মাটির 
কবর কিংবা আগুন সখার দল ! 
বৃষ্টি , ওগো বৃষ্টি ,বনানী ভেজাও আমার 
দেহ - এ ঘর জ্বালানো পোড়া চোখ !!
*********************************************
৩১#সার্কোফেগাস_এক_অরণ্য_গাঁথা ( ১৪-৯-১৬ © পবিত্র চক্রবর্তী )
**********************************************
অরণ্য কেমন আছো নাগরিক কফিনে ?
একে একে করছে গ্রাস পিরামিড-
কংক্রিট সুখী মানব বলয় ! আর শেষে ,
এঁটে দিচ্ছে তোমায় সার্কোফেগাসে !
অরণ্য-বনানী-শ্যামল প্রান্তর তোমার 
প্রাচীন বুকে অকাল আঠালো রক্তে যে ,
ধারা ছুটে চলেছে , সেই প্লাবিত শোণিত -
মনে করায় ,স্বর্ণ আভূষিত হিটোফেরাসের 
বন্ধ্যা-গোপন কান্না ! অরণ্য তুমি কেমন 
থাকবে , এ অন্ধ মরু মানব বক্ষে ?
কাল রাতে তারাদের ফাঁকে , উঠেছিল 
হেঁয়ালি হিরোগ্লিফিক্স ; হরিণ-বৃক্ষ-
বনস্পতি কত কী সবুজ-লাল আঁকা 
সেই মিশরীয় ভাষায় ! সভ্যতার লিপি 
আজ এতই বর্ণময়-বোধগম্য , তার 
পরিসংখ্যান - এঁকে-লিখে চলে শপিং 
মলের জ্যামিতিক অবয়ব !
তাও , সব বুঝেও প্রশ্ন করি - অরণ্য 
তুমি থাকবে তো মায়ের বুকে প্রবল ভাবে ?
যেমন , আজও মরেও জীবাশ্ম হয় নি -
মোনালিসা বা ক্লিয়োপেট্র্রার স্নিগ্ধতা !
থেকো ভালো অরণ্য ! আগামীরা তোমায় 
কাহিনী না করে বাস্তব করে রাখবে !!
*********************************************
৩২ আমি_এক_নারী ( ৮-৯-১৬ © পবিত্র চক্রবর্তী )
************************************************
আমার নারীত্বে তোমাদের এত প্রশ্ন কেন ?
এত প্রশ্ন - এর জবাব দেওয়া কী জরুরী ?
জরুরী - উত্তর খোঁজের জন্য নগ্ন হওয়া ?
নগ্ন হলেই কী এ ছিন্ন দেহ স্বীকৃত হবে 
আমি ধর্ষিতা ? আর আমার রক্তাক্ত হৃদয় -
তার কী হবে হে সমাজ -আইন ? এ কী 
তোমাদের সত্যিই অন্ধত্ব , না , আমার 
শুধুমাত্র উন্মাদ-প্রলাপ হাহাকার চিত্কার ?
কাল রাতে সংগ্রাম করতে তীক্ষ্ণ দাঁত দিয়ে 
গর্দানকে কামড়ে ধরেছিলো পুরুষ সিংহ !
তারপর , কামাতুরের বীজে সিক্ত হয় -
জঙ্গল-অরণ্যের জমিও ! সেদিন রাতে 
প্রবল চিত্কারের পর এক দুই করে 
আসে পৃথিবীর কোমল আলোয় আগামীর 
শ্বাপদ প্রতিনিধিকূল ! সহবাসের আদিমতা 
সহজাত হলেও ধর্ষণের নীল কাহিনী 
নিষিদ্ধ আফ্রিকা-সাইবেরিয়া অথবা 
ম্যাপের পরিচয়হীন অরণ্যে ! বহু কথিত অসভ্যতার
প্রতীক-পশুত্বের গালাগাল 
থেকে ছাড়পত্র দিয়েছিলো বসুন্ধরা !
আমার গর্ভে যে সন্তান এসেছে তার 
উপস্থিতি জানে হয়তো তাদের লজ্জার 
নিষিদ্ধ রাতের প্লাবিত এক গোপন কাহিনী !
ভ্রূণের পিতার পরিচয় দ্বিতীয় বিষয় এই 
মানব জঙ্গল মহলে ; কেবল জানতে চায় 
তার আগমনের কারণের ব্যাখ্যা বা নাড়ির
সাথে লিপ্ত ভ্রূণ-- পুরুষ , না , নারী ; অবৈধ 
বৈধর দ্বৈরথ ! পুরুষ , না , নারী ! হে 
মানব অরণ্যের সিংহকূল , আমি জানি -
আমার মাতৃপথ বারংবার অবমাননা 
করেও - উদ্ধত থেকেছে পুরুষতন্ত্র !
আমি নারী , সমাজের অভুক্ত ডাস্টবিন 
বাসী নররুপী কুকুরের অধমেরা খেয়েছে 
ছিঁড়ে - এটাই আমার প্রথম আর শেষ 
জবানবন্দি , এর বেশী প্রমাণ চাইতে 
একটু না হয় লজ্জায় মাথা নত করলে !
আর , মান্যবর পুরুষকূল - যাও সেই রাতের
অরণ্য সিংহ-শ্বাপদের সাম্রাজ্যে -
সাথে নুব্জ মেরুদন্ড নিয়ে নিও-সত্য করে 
নিও শিক্ষা - এক নায্য অধিকারের পাঠ !!
*************************************************

৩৩#ক্রান্তির_এক_কাল ( ২৭-১১-১৬ © পবিত্র চক্রবর্তী )
******************************
ঝাঁটার কাঠির মত প্রতিদিন ক্ষয় পায়ের চামড়া ;
এ ধরিত্রী রুক্ষতার ছবি আঁকে , সবুজ গেলে কই ?
দিক নির্ণয়ে ভ্রান্ত গৃহস্থের রোজনামচা । আমরা ,
হয়তো জানি-চিনি অধিকার ; প্রশ্ন জাগে ক্রমে --
জানে কি কেউ বাঁচার তাগিদটা কার জন্য ?
জমাছে ক্রান্তির কুণ্ডলীকৃত সাপ প্যাঁচের উপর 
প্যাঁচ । মহাভারতের পাঞ্চজন্য উঠছে ভাঙা 
সুরে আমার-তোমার আধ ফালির আঙিনায় ।
কর্তব্যের পরিমাপ অজানা সবার , শুধু আর্তরব 
অধিকারের , তাও শীত জড়ানো সকালের মত
অধিকারের রেখা টানা গণ্ডি ।
সততার শব্দকোষ , খিস্তির মত যেন বর্জনীয় ;
পরস্পর পরস্পরের কাছে কেনা নগদ মূল্যে ।
এখন সময় স্যারিব্রাল আক্রমণে অসুস্থ ।
তবুও সিদ্ধ ভাতের ধোঁয়ারা বাতাসের কোলে 
মাতামাতি করে , কুলের শাখায় বছরের উর্বরতা --
সর্ষের হলুদ উষ্ণতা , ধানের স্বর্ণময় আবাহন ,
হয়তো হয়েছে ফ্রেমবন্দী কোন ঘর রাখে ধরে ॥
৩৪#শেষে_একদিন ( ২৭-১১-১৬ © পবিত্র চক্রবর্তী )
******************************
শেষে একদিন পাথুরে বুকে , আড়াল 
থাকা তারার মত ফুটেছিল ফুল ।
বন্ধ্যা মেয়েটির স্ফীত উদরে সেদিন 
ধাক্কা মেরেছিল এক ঢেলা বাধা কোষ -
কোণে দেখা গেছিল জমাট করা যে হাসি ;
সেদিন , রুক্ষতার চাদর ক্ষণিক সরিয়ে 
শান্তির ঘুম , দিয়েছিল এ বুক খানি । আস্তে 
আস্তে ঘুমহীন চোখ পেয়েছিল ঘুম ।
এ রুক্ষ দেশ , চোখে-মুখে হঠাত্ -
উষ্ণ বালির স্রোত মনে করিয়ে দেয় ,
পথ হারানো রাজপথের জন্মলগ্নে 
তাণ্ডব চালিয়ে যখন যন্ত্র আর যান্ত্রিক 
নায়কের দল সহবাস করতে গেছিল ,
সেদিন , মেঠো পথ কেঁদেছিল শেষ কান্না -
তারপর , অবলুপ্ত ইতিহাসের মত রাখে নি 
মনে , ফেলে আসা অতীতের প্রাচীন যাত্রা ।
শেষে , ধীরে ধীরে রাত হয় -
ঘুমাও ঘুমাও ঘুম ঘুম রুক্ষ চোখ ॥
৩৫আমার_শ্যামা 
পবিত্র চক্রবর্তী
যদি হত শ্যামার মত আমার অ্যাসিড
 জ্বলা মায়ের-মেয়ের মুখ ? 
যদি থাকত কৃপাণ-শূল সেই অভয়াদের হাতে ? 
হয়তো নগ্নতার হিংস্র মুখ মুণ্ডমালা হয়ে উঠতো
 সেজে হাজার-লক্ষ মাটির পুত্তলিকা প্রাণ প্রদীপ !
মৃন্ময়ী , তোর চিন্ময়ী মায়ের পদ তলে আছে যে রূদ্রাভ  
আজ তোর হোক শুরু নতুন দীপের অগ্নিশিখা ! 
তুই অভয়া-জিব্রাইলের শক্তি , 
দে মা তুই পঞ্চ ম-কার ,
তুই তো সকল বুধ-জ্ঞানী  
তোর নির্ভয়া আশ্বাসে বাঁচুক উঠে ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি ! 
ধ্বংসের মাঝে সৃষ্টি হোক নারী  
মেঘবর্ণা-জগত্ পালিকা -চণ্ডীকা !!

৩৬#পাখিদের_স্বপ্ন ( ২৫-১১-১৬©পবিত্র চক্রবর্তী )
*********************************************
কথার বাজারে যে কথা বলা হয় নি -
তারই জলছবি আঁকে পাখি ; তার 
অপাপবিদ্ধ মনে এদিক থেকে ওদিক ,
উড়তে উড়তে আবার উড়তে উড়তে -
এসে বসে আমার কাঁধে , তার রঙীন -
রেশমী পালকে আমার শরীরে নামে ,
পরম এক অনাস্বাদিত শ্রান্তি ! আর তখনই ,
পাখি বলে - " স্বপ্ন দেখো না কেন ?"
আদুরে স্বরের কাছে পরাজয় সম্ভব !
প্রায় ঘন কালো থেকে কালো চোখের 
মানিতে একছটাক হাঁসি একে জবাব 
দিলাম - " স্বপ্নরা যে উড়তে উড়তে ,
আবার উড়তে উড়তে ,তোর দেহে মনে ,
বেঁধেছে বাসা ; পারলে সাজিয়ে নিস !"
পাখী অন্য পাখিদের সাথে ঠোঁটে ঠোঁট 
লাগিয়ে পরিযায়ী হয় ! উড়ন্ত মন -
পড়ন্ত বিকাল ! পাখিরা স্বপ্ন বহন করে !!
৩৭ Sacred
Poet: - Pobitra Chakraborty
Whenever you jump in this
Category will rise, 
I want to be back after so much!
You do not have to shut proceeded 
Jumps tread on me. However, 
In a day cycle I-We or,
You-you, go to the same category,
No, do not breathe too long, I-
We’ll rest again.
However, no one know when the 
Finish line will come! What’s the 
Level of infinity? If,
If not, the day will end category.
I stayed on our behalf this time
A poor man on this list.
Goddess Laxmi’s blessing be with you
And you are sons and daughters;
Of the total, the lack of which. 
********************************************

৩৮ #সার্কেল ( ২-১১-১৬ © পবিত্র চক্রবর্তী )
******************************************
তুমি যখনই যে শ্রেণীতে লাফিয়ে উঠবে ,
আমি তত পিছনে থাকতে চাই পরে !
তোমার এগিয়ে যাওয়া রুদ্ধ হবে না
আমার লাফ মাড়াতে ! তারপরও যদি 
কালের চক্রে আমি-আমরা অথবা , তুমি-
তোমরা একই শ্রেণীভুক্ত হয়ে যাই , না ,
একদম নিঃশ্বাস ফেলো না দীর্ঘ , আমি-
আমরা আবার বিশ্রাম নেব !
তবে , কতটা এগোলে শেষ হবে জানা নেই 
কারোর ! স্তর-শ্রেণী কী ইনফিনিটি ? যদি 
না হয় , সব শ্রেনীরা একদিন শেষ হবে !
আমি থাকলাম আমাদের প্রতিনিধি হয়ে 
নির্ধনের তালিকায় এইবার ! তুমি থেকো
 তোমাদের লক্ষ্মীর বর পুত্র-কন্যা হয়ে !
মোট কথা , যার যেটার অভাব !!
৩৯ উত্তর
কবি – পবিত্র চক্রবর্তী
নিঃশ্বাসের শব্দ কি শুনিতে পাও
বালুচর ? আছড়ে পড়ে তোমার বক্ষে
শত শত জারজ সন্তান ! সিক্ত ঠোঁটে
উষ্ণতার স্পর্শ পায় ওরা , কোন অধিকারে ?
কীসের এ বন্ধন ! গোপনীয়তাহীন !

উত্তরের বাতাসে প্রতিধ্বনি যায় শোনা –
বিস্ময়ে শুনিলাম , আমায় না দেখাই
ভালো । যে হৃদয় দেখেছো তাহা
বলে , সাধ্যের বাইরে –
চকিতে দেখিলাম , সূর্য কিরণে
সজল ছায়া । অশ্রু ঝরে শিশির
কণার মত ; ঘাস ফড়িং আস্বাদন
করে শীতলতা ।

সেদিন প্রখর রৌদ্রে মেঘের জলবীর্য হারায়
তাহার অবয়ব , সাধ্য – বালুচরের হৃদয়ে ।
হাঁটিতে লাগিলাম আমি বিবাগী পথিক –
পথ আমার শীর্ণ পা’কে করেছে বন্ধু ।

হে মানব – তোমার শরীর , অশ্রু
যদি হয়ও অকাল সঙ্গমের সংজ্ঞা – তাও ‘
তাও প্রান্তর , ভাঙা পথ , উদাসী
বাতাস , বালুচর দেয় ক্ষণিক শান্তি ;
বলো তুমি , কীসের তরে ?
নগ্ন হও , প্রতি মুহূর্তে কাহার ভরসায়
এই বদ্ধ অথবা উন্মুক্ত বাতায়নে ??
৪০ পাড়ি দেওয়ার আগে
কবি – পবিত্র চক্রবর্তী
ঘুমের দেশে পাড়ি দেওয়ার
আগে যদি পাইতাম দেখিতে –
নামহীন দ্বীপে তোমার সঙ্গে
সহবাস হত । আর ঔরসে ধীরে ধীরে
পালিত বীর্যবান সন্তান মনে করিয়ে
দিত পৃথিবীর ইতিহাসকে ।

বৃষ্টির প্রতি কণার নাম না জানা
ভূমির অপরাগ । গভীর স্নেহে গর্ভে
তাঁর শত-লক্ষ-কোটি জননীর
হওয়ার অসামান্য আত্মগৌরব ।
কলঙ্কিনী ধরার তবু নাহি যায়
স্মিত হাস্য , মনে করিয়ে দেয়
তাঁর সিঁদুরহীন হওয়ার সম্মান ।

ক্লান্ত হইলে এসো আমার শুষ্ক ওষ্ঠে ,
হৃদয়ের আজান তখনও শোনাবে
অস্তগামী সাত অশ্বরথীর বীর গাথা ।

দূরের বলাকা মেলিয়াছে পাখা তাদের
সুদূরের পথে -। পালকে দেখা
দিবে কর্দমাক্ত সৌর কিরণের
প্রতিবিম্ভ ।

রাজন তুমি , যাও কোথা ?
নিবে না কি সাথে তব পিতৃ পরিচয় !
নাই বাঁ হল মন্ত্রপূত বৈদিক ধ্বনি –
অস্বীকার করিলেও বৃষ্টির কাছে
পরিচয় দিব তোমার ছুঁড়ে ফেলা
ক্ষণিক ভালোবাসার জৈবিক চিহ্ন ।।


Comments

Popular posts from this blog

মিছিল

ভারতীয় ভাস্কর্যে সমকামিতা

মণি-মুক্তা